উজবেকিস্তানের সরকার গড়ে তোলা এক জাতীয় লাইসেন্স প্লেট পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক ইন্টারনেটের মাধ্যমে সবার কাছে উন্মুক্ত হয়ে গেছে। দেশের প্রায় একশোটি উচ্চ রেজোলিউশনের রোডসাইড ক্যামেরা রিয়েল‑টাইমে গাড়ির নম্বর ও চালকের চেহারা স্ক্যান করে, এবং সম্ভাব্য ট্রাফিক লঙ্ঘন চিহ্নিত করে। এই সিস্টেমের তথ্যের অপ্রতিবন্ধিত প্রবেশাধিকার নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার ক্ষেত্রে বড় উদ্বেগ উত্থাপন করেছে।
নেটওয়ার্কটি দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি পর্যবেক্ষণ করা হয়। ক্যামেরাগুলি লাল সিগন্যাল অতিক্রম, সিটবেল্ট না পরা, রাতের সময় অননুমোদিত গাড়ি চালানো ইত্যাদি লঙ্ঘন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে। সনাক্তকৃত তথ্য কেন্দ্রীয় ডাটাবেসে সংরক্ষণ হয়, যা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ব্যবহার করে জরিমানা বা অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
একটি উদাহরণে দেখা যায়, একটি গাড়ি ছয় মাসের সময়কালে নিয়মিতভাবে চিরচিক, তাশকেন্ড ও কাছাকাছি ইশোঙুজার শহরে চলাচল করছিল। একই গাড়ি সপ্তাহে একাধিকবার এই তিনটি স্থানের মধ্যে যাত্রা করছিল, যা সিস্টেমের ট্র্যাকিং ক্ষমতা স্পষ্ট করে। এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, সিস্টেমটি একক গাড়ির গমনপথকে সুনির্দিষ্টভাবে রেকর্ড করতে সক্ষম।
এই পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা ফাঁকটি প্রথমে একটি নিরাপত্তা গবেষক শনাক্ত করেন। তিনি সিস্টেমের ওয়েব ইন্টারফেসে কোনো পাসওয়ার্ড সুরক্ষা না থাকায় সবার জন্য উন্মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ফলে যে কেউ লাইসেন্স প্লেট, গাড়ির ছবি ও চালকের চেহারা সহ ডাটাবেসের সম্পূর্ণ বিষয়বস্তু দেখতে পারত। গবেষক এই বিষয়টি প্রযুক্তি সংবাদমাধ্যমে জানিয়ে দেন।
ডাটাবেসের প্রথম রেকর্ড অনুযায়ী, সিস্টেমটি সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ স্থাপিত হয় এবং ট্রাফিক মনিটরিং কার্যক্রম মধ্য ২০২৫ থেকে শুরু হয়। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কতদিন ধরে এই তথ্য অনলাইন থেকে অ্যাক্সেসযোগ্য ছিল তা জানা যায়নি। উন্মুক্ত অবস্থায় থাকা ডাটাবেসের মাধ্যমে দেখা যায়, সিস্টেমটি গড়ে দিনে কয়েক হাজার গাড়ির তথ্য সংগ্রহ করে এবং তা রিয়েল‑টাইমে আপডেট করে।
এই ঘটনা গোপনীয়তা ও সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। একদিকে, জাতীয় পর্যায়ে গাড়ির চলাচল পর্যবেক্ষণ ট্রাফিক নিরাপত্তা বাড়াতে পারে; অন্যদিকে, অননুমোদিত অ্যাক্সেসের মাধ্যমে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হতে পারে। বিশেষ করে যদি ডাটাবেসে সংরক্ষিত তথ্য অন্য কোনো উদ্দেশ্যে, যেমন বাণিজ্যিক বিশ্লেষণ বা নজরদারি, ব্যবহার করা হয়, তবে তা নাগরিকের অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
উজবেকিস্তানের এই নিরাপত্তা ফাঁকটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রেও জাতীয় লাইসেন্স প্লেট রিডার নেটওয়ার্ক দ্রুত বাড়ছে। এই নেটওয়ার্কের বেশিরভাগ সরঞ্জাম ফ্লক নামক বড় নজরদারি কোম্পানি সরবরাহ করে। সাম্প্রতিক সময়ে একই কোম্পানির ক্যামেরা কয়েকটি দেশে অনলাইনে উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে একজন সাংবাদিক নিজেই রিয়েল‑টাইমে ক্যামেরা দ্বারা ট্র্যাক হওয়া দেখেছিলেন। উভয় ঘটনার মিল হল, সিস্টেমের পাসওয়ার্ড সুরক্ষা না থাকা এবং ডেটা সহজে অ্যাক্সেসযোগ্য হওয়া।
এই ধরনের ফাঁক প্রকাশের ফলে সরকার ও প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে সাইবার নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। ডেটা এনক্রিপশন, বহুপদী প্রমাণীকরণ এবং নিয়মিত নিরাপত্তা অডিটের মাধ্যমে সিস্টেমকে অননুমোদিত প্রবেশ থেকে রক্ষা করা সম্ভব। একই সঙ্গে, নাগরিকদের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য স্পষ্ট নীতিমালা ও আইনি কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।
উজবেকিস্তানের উদাহরণ দেখায়, বৃহৎ স্কেলের ট্রাফিক পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি কতটা শক্তিশালী এবং কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে, এমন সিস্টেমের ডেটা সহজে প্রকাশ পেতে পারে, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও জাতীয় নিরাপত্তা উভয়েরই হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রযুক্তি যদি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রিত না হয়, তবে তা সমাজের বিভিন্ন স্তরে অনিচ্ছাকৃত নজরদারি ও তথ্যের অপব্যবহার বাড়াতে পারে।
এই ঘটনার পর, উজবেকিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সিস্টেমের নিরাপত্তা উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লাইসেন্স প্লেট রিডার নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা মানদণ্ড নির্ধারণের জন্য আলোচনার দরকার বাড়ছে। প্রযুক্তি ও গোপনীয়তার সমন্বয় বজায় রাখতে, সরকার, শিল্প ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।



