ঢাকা শহরের দৈনিক স্টার সংবাদপত্রের সদর দফতরে ১৯ ডিসেম্বর রাত ১২.২৫ টার দিকে এক দাঙ্গা ঘটেছে। স্থানীয় অস্ত্র, লাঠি ও জ্বালানী সামগ্রী নিয়ে গোষ্ঠীটি গেট ভেঙে প্রবেশ করে, কর্মীদের শারীরিক আক্রমণ করে এবং সম্পদ নষ্ট করে। এই ঘটনার তদন্তে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত আজ পুলিশকে ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত তদন্তের পূর্ণ প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামশেদ আলমের আদেশে সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত নয়জনকে জেল শাস্তি দেওয়া হয়েছে। শাস্তিপ্রাপ্তদের নাম ও বয়স হল: মাইনুল ইসলাম (২২), জুলফিকার আলী সোরভ (২২), আলমাস আলী (৩২), জুবায়ের হোসেন (২১), আইনুল হক কাশেমি (৩০), আবদুর রহমান পলাশ (৩০), জান্নাতুল নঈম (২১), কোরি মুআজবিন আবদুর রহমান (৩৪) এবং ফয়সাল আহমেদ (২৪)।
দৈনিক স্টারের অপারেশনস প্রধান মিজানুর রহমান গতকাল তেজগাঁও থানা-তে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৩৫০ থেকে ৪০০ অজানা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, যাদেরকে তিনি হামলার মূল দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আক্রমণকারীরা গৃহস্থালি অস্ত্র, লাঠি ও জ্বালানী সামগ্রী ব্যবহার করে গেট ও কাঁচের দরজা ভেঙে অফিসে প্রবেশ করে।
মামলায় তিনটি আইনগত ধারা উল্লেখ করা হয়েছে: সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ধারা ৬(১), বিশেষ ক্ষমতা আইনের ধারা ১৫(৩) এবং সাইবার নিরাপত্তা আদেশের ধারা ২৬(১)। এই ধারাগুলি অনুযায়ী অপরাধীকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, বিশেষ ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সাইবার নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগে দায়ী করা হয়েছে।
আক্রমণকারীরা রাত ১২.২৫ টার দিকে দৈনিক স্টার ভবনের সামনে জড়ো হয়ে উত্তেজনাপূর্ণ স্লোগান চিৎকার করে। অনলাইন সক্রিয়তাবাদীরা সামাজিক মাধ্যমে উস্কানিমূলক বার্তা পোস্ট করে দাঙ্গা উস্কে দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে। প্রায় দশ মিনিট পরে, অর্থাৎ রাত ১২.৩৫ টায়, গোষ্ঠীটি গেট ও কাঁচের দরজা জোরে ভেঙে অফিসের ভিতরে প্রবেশ করে।
অভ্যন্তরে প্রবেশের পর তারা কর্মীদের শারীরিকভাবে আক্রমণ করে, ডেস্ক ও ফার্নিচার ভেঙে ফেলে এবং মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে। একই সঙ্গে তারা দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে ফার্নিচার ও নথিপত্রে আগুন জ্বালায়।
হামলার ফলে দুইশতাধিক কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ক্যামেরা, প্রিন্টার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকার সমান। এছাড়া, বিভিন্ন লকারে সংরক্ষিত প্রায় পঁয়ত্রিশ লাখ টাকার নগদ অর্থ চুরি করা হয়েছে।
দাহের শিখা তলা, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় ছড়িয়ে পড়ে, ফলে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সম্পদ ব্যাপকভাবে নষ্ট হয়। ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, ফাইল এবং সংরক্ষিত ডেটা অন্তর্ভুক্ত, যা সংবাদ সংস্থার কাজের ধারাকে ব্যাহত করেছে।
অধিক তদন্তের জন্য পুলিশকে এখন পর্যন্ত সংগ্রহ করা সব প্রমাণ, সাক্ষী বিবৃতি এবং ডিজিটাল রেকর্ডসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে হবে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, এই প্রতিবেদনটি ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত উপস্থাপন করতে হবে, যাতে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চালু করা যায়।
এই মামলায় আদালত ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়েছে। ভবিষ্যতে অনলাইন উস্কানিমূলক পোস্ট ও হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের পর, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



