ক্যালিফোর্নিয়া ফেডারেল কোর্টে নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ও “ব্যাড ব্লাড” লেখক জন ক্যারেইরো এবং আরও পাঁচজন লেখক একসাথে গুগল, এলন মাস্কের xAI, ওপেনএআই, অ্যান্থ্রপিক, মেটা প্ল্যাটফর্মস এবং পার্লেক্সিটি‑কে লক্ষ্য করে মামলা দায়ের করেছেন। তারা দাবি করেন যে এই প্রতিষ্ঠানগুলো কপিরাইটযুক্ত বইগুলো অনুমতি ছাড়া সংগ্রহ করে তাদের বড় ভাষা মডেল (LLM) প্রশিক্ষণে ব্যবহার করেছে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট এআই কোম্পানিগুলো বইয়ের পূর্ণ পাঠ্য বা বড় অংশগুলোকে ডেটা হিসেবে গ্রহণ করে চ্যাটবটের জ্ঞানভাণ্ডার গড়ে তুলেছে, যা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই অভিযোগগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টেক কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক কপিরাইট মামলার ধারাবাহিকতা, তবে xAI‑কে প্রথমবারের মতো অভিযুক্ত করা হয়েছে।
পার্লেক্সিটি কোম্পানি দাবি করেছে যে তারা কোনো বইকে ইনডেক্স করে না এবং তাই কপিরাইট লঙ্ঘনের কোনো ভিত্তি নেই। অন্য সব অভিযুক্ত কোম্পানি এই মুহূর্তে মামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য প্রদান করেনি।
লেখকগণ এই মামলায় সমষ্টিগত (ক্লাস অ্যাকশন) রূপ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা যুক্তি দেন যে ক্লাস অ্যাকশন প্রক্রিয়ায় একাধিক দাবিদারকে একসাথে যুক্ত করে প্রতিরক্ষাকারীকে কম মূল্যে সমঝোতা করার সুযোগ দেয়, ফলে উচ্চমূল্যের দাবিগুলোকে কম দামে সমাপ্ত করা সম্ভব হয়।
মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, “বড় ভাষা মডেল কোম্পানিগুলোকে হাজার হাজার উচ্চমূল্যের কপিরাইট দাবি সহজে কম দামে নিঃশেষ করার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে লেখকগণ এআই শিল্পের দ্রুত বর্ধনকে কপিরাইট রক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না বলে চিহ্নিত করছেন।
আগে অ্যান্থ্রপিক কোম্পানি আগস্ট মাসে একটি বড় কপিরাইট বিরোধে ১.৫ বিলিয়ন ডলার সমঝোতা করে, যেখানে লেখকগণকে প্রতিটি লঙ্ঘিত কাজের জন্য কপিরাইট আইনের সর্বোচ্চ সীমা $১৫০,০০০ এর মাত্র ২% প্রদান করা হয়েছিল। নতুন মামলায় লেখকগণ উল্লেখ করেছেন যে, এমন অল্প পরিমাণের ক্ষতিপূরণ কপিরাইট ধারকদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার রক্ষা করে না।
মামলাটি ফ্রিডম্যান নরম্যান্ড ফ্রাইডল্যান্ড আইন সংস্থার আইনজীবীরা দায়িত্বে নিয়েছেন, যার মধ্যে কাইল রোচে অন্তর্ভুক্ত, যাকে ক্যারেইরো পূর্বে তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিলেন।
এই মামলা এআই কোম্পানিগুলোর ডেটা সংগ্রহের পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে, বিশেষত কপিরাইটযুক্ত সাহিত্যিক কাজের ব্যবহার সংক্রান্ত স্পষ্ট লাইসেন্সিং চুক্তি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবে।
আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান, তবে এই ধরনের উচ্চপ্রোফাইলের মামলা কপিরাইট আইনকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুগে কীভাবে প্রয়োগ করা হবে তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মামলার ফলাফল নির্ভর করবে আদালতের ব্যাখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ ডেটা নীতি পরিবর্তনের উপর, যা শেষ পর্যন্ত সৃষ্টিকর্তা ও প্রযুক্তি শিল্পের মধ্যে সমতা রক্ষার নতুন মডেল গড়ে তুলতে পারে।



