27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাচীন ও কুয়েতের মধ্যে মুবারক আল‑কাবির বন্দর নির্মাণে ৪.১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি...

চীন ও কুয়েতের মধ্যে মুবারক আল‑কাবির বন্দর নির্মাণে ৪.১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর

চীন এবং কুয়েতের সরকার ৪.১ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ১.২৮ বিলিয়ন কুয়েতি দিনার) ইঞ্জিনিয়ারিং‑প্রকিউরমেন্ট‑কনস্ট্রাকশন (EPC) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার লক্ষ্য কুয়েতের বুবিয়ান দ্বীপে মুবারক আল‑কাবির বন্দর নির্মাণ সম্পন্ন করা। চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানটি কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ আহমদ আল‑আবদুল্লাহ আল‑আহমদ আল‑সাবাহের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি প্রকল্পের কুয়েতের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রীয় তদারকি সংস্থা স্টেট অডিট ব্যুরো প্রকাশ করেছে যে, এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ১.২৮ বিলিয়ন কুয়েতি দিনা, যা বর্তমান বিনিময় হারে প্রায় ৪.১৬৪ বিলিয়ন ডলার সমান। চুক্তির আওতায় বন্দর নির্মাণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো, সরঞ্জাম সরবরাহ এবং প্রকৌশল সেবা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

চীনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স লিউ শিয়াং উল্লেখ করেছেন যে, এই চুক্তি চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে কুয়েতের সঙ্গে সহযোগিতা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। বেল্ট অ্যান্ড রোডের অধীনে কুয়েতের কৌশলগত অবস্থান, বিশেষত গালফ অঞ্চলে বাণিজ্যিক রুটের সংযোগস্থল হিসেবে, চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়।

কুয়েতের এই পদক্ষেপটি দেশের অর্থনীতিকে তেল‑নির্ভরতা থেকে বিচ্যুত করে বহুমুখী করার কৌশলের অংশ। তেল সমৃদ্ধ দেশটি বৈশ্বিক বাণিজ্যে সক্রিয় ভূমিকা নিতে এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে অংশীদারিত্ব বাড়াতে এই ধরনের অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। বন্দর সম্পন্ন হলে কুয়েতের রপ্তানি‑আমদানি কার্যক্রমে গতি আসবে, বিশেষত গালফের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেনে।

২০২৩ সালে কুয়েত চীনের সঙ্গে মোট সাতটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে, যার মধ্যে মুবারক আল‑কাবির বন্দর প্রকল্পের পাশাপাশি আবাসন, পানি পরিশোধন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্ষেত্রের উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত। এই ধারাবাহিকতা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে তুলছে।

বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, বন্দর নির্মাণের জন্য চীনের অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তি ব্যবহার কুয়েতের অবকাঠামো উন্নয়নে গুণগত মান বাড়াবে। একইসাথে, চীনের নির্মাণ সংস্থাগুলোর জন্য গালফ অঞ্চলে উপস্থিতি শক্তিশালী হবে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রকল্পের দরজাও খুলে দিতে পারে। তবে, বৃহৎ আর্থিক ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা পরিবর্তনের ঝুঁকি প্রকল্পের আর্থিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ আহমদ আল‑সাবাহের মন্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই বন্দর কুয়েতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নেটওয়ার্কে নতুন সংযোগ স্থাপন করবে এবং দেশের লজিস্টিক্স খাতে প্রতিযোগিতা বাড়াবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রকল্পের সম্পন্ন হওয়ার পর কুয়েতের রপ্তানি পণ্যের গন্তব্য বাজারের পরিসর বাড়বে এবং গালফের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যিক প্রবাহে নতুন গতিশীলতা আসবে।

চীনের লিউ শিয়াংও এই চুক্তিকে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা কুয়েতের সঙ্গে চীনের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও দৃঢ় করবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বেল্ট অ্যান্ড রোডের অধীনে অবকাঠামো বিনিয়োগ কেবলমাত্র শারীরিক সংযোগই নয়, বরং আর্থিক ও বাণিজ্যিক সংযোগের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করে।

সারসংক্ষেপে, মুবারক আল‑কাবির বন্দর প্রকল্প কুয়েতের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক অবস্থান শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। চীন‑কুয়েতের এই বৃহৎ আর্থিক চুক্তি উভয় দেশের জন্য কৌশলগত সুবিধা প্রদান করবে, তবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন পর্যায়ে আর্থিক ও মুদ্রা ঝুঁকি যথাযথভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে বন্দর সম্পন্ন হলে কুয়েতের লজিস্টিক্স খাতের প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে, যা গালফ অঞ্চলের সামগ্রিক বাণিজ্যিক পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments