প্রসিদ্ধ ইউটিউব ও সামাজিক মাধ্যমের কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম, যাকে হিরো আলম নামেও বেশি চেনা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তার এই ঘোষণার পর থেকে তিনি এবং তার পরিবারকে জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলা হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন।
হিরো আলমের মতে, নির্বাচনী ঘোষণা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তাকে বিভিন্ন রূপে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতি তার পারিবারিক নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে। তিনি শিগগিরই প্রধান উপদেষ্টার কাছে আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন, যাতে তার ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য একটি নিরাপত্তা কর্মী (গানম্যান) বরাদ্দ করা হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্রুত নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার দাবি তিনি জানিয়েছেন।
এই সময়ে, গণঅধিকার পরিষদ, আমজনতার দল, বাংলাদেশ লেবার পার্টি এবং বাংলাদেশ শ্রমজীবী পার্টি সহ চারটি রাজনৈতিক সংগঠন হিরো আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে তিনি কোন দল থেকে প্রার্থী হবেন তা এখনো নির্ধারণ করেননি এবং সিদ্ধান্তের আগে সব বিকল্প বিবেচনা করছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, দল যাই হোক না কেন, তার মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণে কাজ করা এবং মানুষের পাশে থাকা।
হিরো আলম ঢাকা ও বগুড়া দুইটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি উভয় এলাকায় তার উপস্থিতি ও সমর্থন গড়ে তুলতে বিভিন্ন প্রচারণা চালাবেন বলে জানিয়েছেন। তার রাজনৈতিক সক্রিয়তা, ধারাবাহিক প্রচারণা এবং সাহসী অবস্থান ইতোমধ্যে রাজনৈতিক আলোচনায় তাকে কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো হিরো আলমের স্বাধীন প্রার্থিতাকে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন গতিবিদ্যা হিসেবে দেখছে। কিছু বিশ্লেষক মন্তব্য করছেন, তার প্রবেশের ফলে ভোটারদের পছন্দের পরিসরে পরিবর্তন আসতে পারে এবং নির্বাচনী গতি পরিবর্তিত হতে পারে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো দল তার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে জোট গঠনের প্রস্তাব রাখেনি।
হিরো আলমের নিরাপত্তা সংক্রান্ত আবেদন এবং তার রাজনৈতিক পরিকল্পনা নির্বাচনী কমিশন ও নিরাপত্তা দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা না হলে তার রাজনৈতিক অংশগ্রহণে বাধা আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
যদি হিরো আলম কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতীক ব্যবহার করে প্রার্থী হন, তবে তা তার রাজনৈতিক জীবনের একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। বর্তমানে তিনি স্বাধীনভাবে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বজায় রেখেছেন, তবে ভবিষ্যতে দলীয় সমর্থন গ্রহণের সম্ভাবনা খোলা রাখছেন।
এই পরিস্থিতিতে, নির্বাচনের পূর্বে হিরো আলমের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অবস্থান কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে। তার সিদ্ধান্তের পরিণতি ভোটারদের পছন্দ এবং নির্বাচনী ফলাফলে কী প্রভাব ফেলবে, তা পরবর্তী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে।



