সচিবালয়ে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তরে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্টভাবে জানালেন যে বাংলাদেশ সরকার ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে স্বাভাবিক অবস্থায় রাখতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে দুই দেশের বাণিজ্যিক লেনদেনের পরিমাণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে রাজনৈতিক সম্পর্কের স্বাভাবিকতা নিশ্চিত করার জন্যও বিভিন্ন স্তরে সমন্বয়মূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ সবের পেছনে দু’দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা প্রধান লক্ষ্য।
ড. সালেহউদ্দিনের মতে, ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যিক সংযোগের ভিত্তি মূলত জ্বালানি, রেলওয়ে, সড়ক ও কৃষি পণ্যসহ বহু ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে। গত ত্রৈমাসিকে দুই দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্যিক লেনদেন প্রায় ১.১ ট্রিলিয়ন টাকার সীমা অতিক্রম করেছে, যা পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এ ধরনের আর্থিক প্রবাহ উভয় দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করে এবং সীমান্ত পারাপারকে সহজতর করে। তাই সরকার এই প্রবাহকে স্থিতিশীল ও স্বাভাবিক রাখতে নীতি নির্ধারণে মনোযোগ দিচ্ছে।
রাজনৈতিক দিক থেকে ড. সালেহউদ্দিন জোর দিয়ে বলেন যে বর্তমান সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের অবস্থা পূর্বের তুলনায় খারাপ নয়, তবে কিছু বিষয় এখনও অস্বাভাবিকতা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন যে সরকার উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে কোনো অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা এড়ানোর চেষ্টা করছে। এছাড়া তিনি বলছেন যে ভারতীয় পার্টি ও সরকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানো হচ্ছে। এই প্রচেষ্টা দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে চালু রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। ড. সালেহউদ্দিন উল্লেখ করেন যে প্রধান উপদেষ্টা নিজে থেকেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন কূটনৈতিক মিটিং ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ করছেন। এছাড়া তিনি বলেন যে সরকার সীমান্ত পারাপার, জ্বালানি সরবরাহ এবং অবকাঠামো প্রকল্পে সমন্বয় বাড়াতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে অব্যাহত সহযোগিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ড. সালেহউদ্দিনের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে বাংলাদেশ কোনো প্রতিবেশীর সঙ্গে তিক্ত সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলা দেশের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। এ কারণে সরকার সব স্তরে সংলাপকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং কোনো অপ্রয়োজনীয় বিরোধের সম্ভাবনা কমাতে সচেষ্ট। এই নীতি দেশের সামগ্রিক কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আসন্ন মাসগুলোতে দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক মিটিং নির্ধারিত হয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক



