ঢাকা শহরে ডিসেম্বর মাসে ক্রিসমাসের প্রচলিত রঙ‑রূপের অভাব দেখা যায়; রাস্তায় গাছের আলো, শপের জানালার সাজসজ্জা বা জিঙ্গল বেল শোনা যায় না। তবু এই সময়ে শহরের বাণিজ্যিক ও সামাজিক প্রাণশক্তি বিয়ের মৌসুমের উচ্ছ্বাসে পূর্ণ, যা স্থানীয় মানুষের জন্য এক ধরনের মৌসুমী উৎসবের পরিবেশ তৈরি করে।
বৈশ্বিক ক্রিসমাসের চিত্রের বদলে, ঢাকার গলিগুলোতে বিয়ের আয়োজনের জন্য সাজানো ফেয়ারির আলো, আধুনিক গানের সুরে নাচ, রাতের দেরি পর্যন্ত আইসক্রিমের স্বাদ এবং বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটানো দেখা যায়। এই উল্লাসপূর্ণ পরিবেশ বিয়ের দম্পতিদের জন্য স্বপ্নের মতো, আর আশেপাশের মানুষদের জন্যও ক্রিসমাসের অনুপস্থিতি পূরণ করে।
শহরের ঐতিহ্যবাহী নীতি “ধর্মে যার যার উৎসব, সবারই একসাথে আনন্দ” এই সময়ে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। যদিও ধর্মীয় ছুটির চিহ্ন নেই, তবে সামাজিক মিলনমেলা এবং পারিবারিক বন্ধনকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত উদযাপন দেখা যায়।
এই উচ্ছ্বাসের মাঝেও, উপহারের সন্ধান করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। অনেকেই বিদেশি বা আমদানি করা পণ্যের বদলে স্থানীয় হস্তশিল্পের দিকে ঝুঁকছেন, যাতে উপহারের সঙ্গে পরিবেশবান্ধব এবং নৈতিক দিকও যুক্ত থাকে।
মোহাম্মদপুরের মাঝখানে অবস্থিত “সোর্স” নামের একটি ন্যায়সঙ্গত বাণিজ্যিক গিফট শপ এই চাহিদা মেটাতে সক্রিয়। এখানে স্থানীয় কারিগরদের তৈরি পণ্য বিক্রি হয়, যা ন্যায়সঙ্গত মজুরি এবং পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা বজায় রাখে। দোকানটি স্থানীয় শিল্পের প্রচার এবং গ্রাহকদের নৈতিক ক্রয় অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে।
সোর্সে ক্রিসমাসের জন্য সাজসজ্জার সামগ্রী, টেবিল ডেকোর, ছোট ছোট গৃহসজ্জা আইটেম পাওয়া যায়। এসব পণ্য স্থানীয় নকশা ও রঙের সমন্বয়ে তৈরি, যা গৃহের পরিবেশে উষ্ণতা যোগায় এবং একই সঙ্গে স্থানীয় শিল্পীর কাজকে সমর্থন করে।
দোকানের অন্যতম জনপ্রিয় পণ্য হল কান্থা—একটি হালকা কম্বল, যা পুরনো শাড়ি থেকে পুনর্ব্যবহার করা কাপড়ের টুকরো দিয়ে তৈরি। এই প্যাচওয়ার্ক কম্বলটি ঐতিহ্যবাহী ধাঁচে তৈরি, তবে আধুনিক ডিজাইনের ছোঁয়া রয়েছে। হালকা ও নরম গঠন, তবু উষ্ণতা প্রদান করে, যা উপহারের জন্য আদর্শ।
বাজারে বর্তমানে নাসখি কান্থা এবং গাঢ় ইন্ডিগো রঙের কান্থা স্টিচ কমফর্টারও প্রচলিত। এই ধরনের পণ্যগুলো ঐতিহ্যবাহী কুশন ও কম্বল হিসেবে জনপ্রিয়, তবে দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। তাই বাজেট অনুযায়ী নির্বাচন করা প্রয়োজন।
স্থানীয় হস্তশিল্পের এই বিকল্পগুলো উপহারের ক্ষেত্রে অনন্যতা এবং পরিবেশগত দায়িত্ব উভয়ই প্রদান করে। ক্রিসমাসের গাছের নিচে অথবা বিয়ের পার্টিতে এই ধরনের পণ্য রাখলে, উপহারপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা স্থানীয় সংস্কৃতির স্পর্শ অনুভব করতে পারেন।
সোর্সের পাশাপাশি, শহরের কিছু ছোট বুটিক এবং হস্তশিল্পের দোকানেও অনুরূপ পণ্য পাওয়া যায়। তবে, ন্যায়সঙ্গত বাণিজ্যিক নীতি মেনে চলা এবং স্থানীয় কারিগরদের সমর্থন করা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে এই শিল্পের টেকসইতা বজায় থাকে।
সারসংক্ষেপে, ডিসেম্বরের ঢাকায় ক্রিসমাসের প্রচলিত রূপ না থাকলেও, বিয়ের উল্লাস এবং স্থানীয় হস্তশিল্পের সমৃদ্ধি একটি বিশেষ উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে। উপহারের জন্য স্থানীয় কারিগরদের তৈরি কান্থা, সাজসজ্জা বা অন্যান্য হস্তশিল্পের পণ্য বেছে নিলে, উভয়ই আনন্দ এবং নৈতিক দায়িত্বের মিশ্রণ ঘটবে।



