28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যFDA যুক্তরাষ্ট্রে গোনোরিয়া চিকিৎসার জন্য দু’টি নতুন মৌখিক অ্যান্টিবায়োটিক অনুমোদন করেছে

FDA যুক্তরাষ্ট্রে গোনোরিয়া চিকিৎসার জন্য দু’টি নতুন মৌখিক অ্যান্টিবায়োটিক অনুমোদন করেছে

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA) সম্প্রতি গোনোরিয়া রোগের চিকিৎসায় ব্যবহারযোগ্য দুইটি নতুন মৌখিক অ্যান্টিবায়োটিক অনুমোদন করেছে। এই ওষুধগুলো হল জোলিফ্লোডাসিন এবং গেপোটিডাসিন, যেগুলো ইউরেথ্রা বা সার্ভিক্সে সীমাবদ্ধ সংক্রমণের ক্ষেত্রে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।

গোনোরিয়া রোগের কারণ নিউইসেরিয়া গোনোরিয়ি ব্যাকটেরিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বহু ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, ফলে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি ঝুঁকির মুখে। বিশেষ করে ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া সেফট্রিয়াক্সোনের কার্যকারিতা হ্রাসের লক্ষণ দেখা দিচ্ছে, যা রোগের বিস্তার রোধে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এই দুই নতুন ওষুধের অনুমোদন গোনোরিয়া চিকিৎসায় দশকের পর দশক পর প্রথম উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত। পূর্বে নিউইসেরিয়া গোনোরিয়ি জন্য কোনো নতুন অ্যান্টিবায়োটিক বিকাশের খবর পাওয়া যায়নি। তাই জোলিফ্লোডাসিন ও গেপোটিডাসিনের বাজারে প্রবেশ রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গ্লোবাল স্তরে গোনোরিয়া রোগের বিস্তার উদ্বেগজনক। ২০২০ সালের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী প্রায় ৮২ মিলিয়ন নতুন কেস রেকর্ড করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর প্রায় ১.৫ মিলিয়ন নতুন সংক্রমণ ঘটছে, যার মধ্যে প্রায় ৫৫০,০০০ কেস সরকারীভাবে রিপোর্ট করা হয়। রোগের দ্রুত সনাক্তকরণ ও উপযুক্ত চিকিৎসা না হলে তা জনস্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

পুরুষদের ক্ষেত্রে গোনোরিয়া সাধারণত পায়ের মূত্রত্যাগে ব্যথা, স্রাবের পরিবর্তন ইত্যাদি লক্ষণ দিয়ে প্রকাশ পায়, তবে কখনও কখনও উপসর্গ দেখা না-ও দিতে পারে। অন্যদিকে নারীদের ক্ষেত্রে প্রায়শই কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না, ফলে সংক্রমণ দীর্ঘ সময় ধরে অজানা থাকে। এই অজানা অবস্থায় রোগটি পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ, বন্ধ্যাত্ব বা অন্যান্য জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

গর্ভবতী নারীর গোনোরিয়া সংক্রমণ নবজাতকের ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। শিশুর চোখে সংক্রমণ হলে সঠিক চিকিৎসা না পেলে অন্ধত্বের ঝুঁকি থাকে। তাই গর্ভবতী নারীর জন্য সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি।

জোলিফ্লোডাসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিকাল ট্রায়াল ডিসেম্বর ১১ তারিখে ল্যানসেট জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এই গবেষণায় বিভিন্ন দেশ—বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ আফ্রিকা, থাইল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্র—এর অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ওষুধের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়। ফলাফল দেখায় যে জোলিফ্লোডাসিন সংক্রমণের স্থান থেকে সংগৃহীত ব্যাকটেরিয়া সংস্কৃতি ধ্বংসে সেফট্রিয়াক্সোনের সমতুল্য সফলতা অর্জন করেছে।

গেপোটিডাসিনের ক্লিনিকাল ডেটা এখনও সম্পূর্ণ প্রকাশিত না হলেও, প্রাথমিক ফলাফল নির্দেশ করে যে এটি একই ধরনের সংক্রমণে কার্যকর হতে পারে। উভয় ওষুধই মৌখিকভাবে গ্রহণযোগ্য, যা রোগীর সুবিধা বাড়ায় এবং ইনজেকশনের ঝুঁকি কমায়।

এই নতুন অ্যান্টিবায়োটিকের অনুমোদন রোগীর চিকিৎসা পছন্দ বাড়াবে এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের জন্য বিকল্পের পরিসর বিস্তৃত করবে। তবে, ওষুধের সঠিক ব্যবহার ও ডোজ অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে অতিরিক্ত ব্যবহার বা ভুল ব্যবহার থেকে নতুন প্রতিরোধ গড়ে না ওঠে।

বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন যে, গোনোরিয়া রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমাতে নিয়মিত স্ক্রিনিং, সুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক এবং দ্রুত সনাক্তকরণ অপরিহার্য। নতুন ওষুধের পাশাপাশি এই মৌলিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বজায় রাখলে রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।

আপনার যদি গোনোরিয়া সংক্রমণের সন্দেহ থাকে, তবে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পরীক্ষা করিয়ে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত। নতুন অ্যান্টিবায়োটিকের প্রাপ্যতা রোগীর জন্য আশার আলো এনে দিচ্ছে, তবে সঠিক তথ্য ও সময়মতো পদক্ষেপই মূল চাবিকাঠি।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Science News
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments