লন্ডন – প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত আটজন হাংগ্রাস্টকারী কারাবন্দি, যাদের বয়স ২০ থেকে ৩১ বছর, তাদের আইনজীবীরা যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা দায়েরের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ইমরান খান ও পার্টনার্স ফার্মের প্রতিনিধিত্বে গৃহীত এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে ন্যায়বিচার সচিব ডেভিড ল্যামি’র সঙ্গে সাক্ষাতের অনুরোধের প্রত্যাখ্যান।
আইনজীবীরা সোমবার সরকারকে একটি প্রি-ক্লেইম চিঠি পাঠিয়ে মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত উত্তর না দিলে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করা হবে বলে সতর্ক করেছেন। এ পর্যন্ত সরকার হাংগ্রাস্টকে কারাগারে অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করে, খাবার না খাওয়া বন্দীদের জন্য নির্ধারিত চিকিৎসা নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলে অবস্থান নিয়েছে।
হাংগ্রাস্টটি ২ নভেম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে চলছে এবং বর্তমানে ৫১ দিন অতিক্রান্ত হয়েছে। এই সময়ে আটজন কর্মী প্রত্যেকেই স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে উদ্বেগের মুখে। তাদের পরিবার ও আত্মীয়রা সাম্প্রতিক দিনে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা জানিয়ে স্বাস্থ্য অবস্থা খারাপ হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
আইনজীবীরা ডেভিড ল্যামি’র সঙ্গে সাক্ষাতের মাধ্যমে বন্দীদের কল্যাণ ও কারাগার শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা করতে চান, যা যদি না হয় তবে প্রাণঘাতী পরিণতি ঘটতে পারে। সরকার এই অনুরোধকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে যে হাংগ্রাস্টের জন্য কোনো বিশেষ নীতি নেই এবং বিদ্যমান চিকিৎসা ব্যবস্থা যথেষ্ট।
আইনজীবীরা উল্লেখ করেছেন যে এই হাংগ্রাস্টটি ১৯৮১ সালের ববি স্যান্ডসের নেতৃত্বে আয়ারল্যান্ডের রিপাবলিকান বন্দীদের হাংগ্রাস্টের পর থেকে যুক্তরাজ্যের সর্ববৃহৎ সমন্বিত হাংগ্রাস্ট। স্যান্ডস ও তার সহ-দলীয়রা ৪৬ দিন পর মর্যাদা পেয়েছিলেন, আর বর্তমান হাংগ্রাস্টের সময়সীমা ইতিমধ্যে তা অতিক্রম করেছে।
দলটির সদস্যদের মধ্যে আমু গিব ৫২ দিন, হেবা মুরাইসি ৫১ দিন, তেউতা হক্সা ৪৫ দিন এবং কামরান আহমেদ ৪৪ দিন হাংগ্রাস্টে যুক্ত। লুই চিয়ারামেল্লো, যিনি ডায়াবেটিক রোগে আক্রান্ত, তাও খাবার না খাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের স্বাস্থ্য অবস্থা দিন দিন অবনতি হচ্ছে, যা মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এই আটজন হাংগ্রাস্টকারীকে যুক্তরাজ্যের পাঁচটি ভিন্ন কারাগারে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ইলবিট সিস্টেমসের ব্রিস্টল শাখা এবং অক্সফোর্ডশায়ারের একটি রয়্যাল এয়ার ফোর্স বেসে অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্তরা চুরি ও সহিংস বিশৃঙ্খলার মতো অপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করছেন।
আইনজীবীরা উল্লেখ করেছেন যে যদি সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো উত্তর না দেয়, তবে তারা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করে বন্দীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মানবিক অধিকার রক্ষার দাবি জানাবে। এই আইনি পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাজ্যের কারাগার নীতি ও হাংগ্রাস্টের চিকিৎসা পদ্ধতিতে পুনর্বিবেচনা হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে এই মামলাটি যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। সরকার যদি হাংগ্রাস্টকারীদের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়, তবে আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়বে।
অন্যদিকে, সরকার হাংগ্রাস্টকে স্বেচ্ছায় করা একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখিয়ে, আইনগত হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করছে। তবে আইনজীবীরা জোর দিয়ে বলছেন যে দীর্ঘমেয়াদী হাংগ্রাস্টের ফলে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কারাগার ব্যবস্থার মানবিক দিকও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
এই মামলার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ ও যুক্তি ভিত্তিক রায়ের অপেক্ষা করা হবে। যদি আদালত সরকারকে হাংগ্রাস্টকারীদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা ব্যবস্থা নিতে আদেশ দেয়, তবে তা ভবিষ্যতে একই ধরনের হাংগ্রাস্টে প্রয়োগযোগ্য নীতি গঠনে সহায়ক হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গোষ্ঠীর হাংগ্রাস্ট এবং তাদের আইনগত পদক্ষেপ যুক্তরাজ্যের কারাগার নীতি, মানবাধিকার রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সমালোচনার মঞ্চে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। ভবিষ্যতে কীভাবে সরকার ও আদালত এই বিষয়টি সমাধান করবে, তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



