বহুমুখী শিল্পী নাতাশা লায়োনে সম্প্রতি পোকার ফেস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আসন্ন চলচ্চিত্র প্রকল্প নিয়ে এক কথোপকথনে তার দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে সিরিজটি পুনরায় চালু হলে তিনি প্রধান চরিত্রে ফিরে আসতে ইচ্ছুক নন এবং তার সময়সূচি অন্য প্রকল্পে পূর্ণ।
লায়োনে নিজেকে সবসময় গম্ভীর ও রসিকতার মিশ্রণ হিসেবে বর্ণনা করেন, যা তিনি নিজের কাজকে একটি শখের মতো পরিচালনা করার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেন। তার এই দৃষ্টিভঙ্গি কথোপকথনের পুরো টোনকে প্রভাবিত করেছে।
পোকার ফেসের দুই সিজনের পর সিরিজটি পিকক থেকে বাতিল হওয়ার পর তিনি শো থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি শো, তার স্রষ্টা রিয়ান জনসন এবং তার চরিত্রের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং এই কাজের স্বীকৃতি তার জন্য বিশেষ অর্থবহ হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন।
শোয়ের সমাপ্তি এবং সাম্প্রতিক পুরস্কার মনোনয়নের পর লায়োনে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বললেন। তিনি ২০২৬ সালে তার প্রধান প্রকল্প হিসেবে একটি নতুন চলচ্চিত্রকে অগ্রাধিকার দেবেন এবং তা নিয়ে কাজের অগ্রগতি শেয়ার করেছেন।
নতুন চলচ্চিত্রের শিরোনাম ‘বাম্বো’ এবং এটি তার দ্বিতীয় দীর্ঘদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের বিষয়ে তিনি কিছুক্ষণ থেমে বললেন যে তিনি এই কাজের জন্য অত্যন্ত কৃতজ্ঞ এবং এটি তার সৃজনশীল যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
লায়োনে সম্প্রতি এআই ও অ্যানিমেশন স্টুডিও অ্যাস্টেরিয়া ফিল্ম কো.-এর সহ-প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই স্টুডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক চলচ্চিত্র ও অ্যানিমেশন তৈরি করার লক্ষ্য রাখে এবং তার প্রথম এআই-হাইব্রিড ফিচার ডিরেক্টরাল ডেবিউ ‘আনক্যানি ভ্যালি’ এর মাধ্যমে এই দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়িত হয়েছে।
‘আনক্যানি ভ্যালি’ প্রকল্পে লায়োনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে গল্পের গঠন ও ভিজ্যুয়াল উপাদান তৈরি করেছেন, যা শিল্পে নতুন প্রযুক্তিগত দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তিনি এআই নিয়ে কাজের সময় সৃজনশীল স্বাধীনতা বজায় রাখার গুরুত্বেও জোর দিয়েছেন।
সিরিজ ‘রাশিয়ান ডল’ এর নতুন মৌসুমের কাজের মধ্যে লায়োনে স্ক্রিপ্টের সময়সীমা পূরণ করতে ব্যস্ত। তিনি উল্লেখ করেছেন যে তিনি এই সিরিজের শুটিং ও পোস্ট-প্রোডাকশন কাজের মধ্যে নতুন স্ক্রিপ্টের ডেডলাইন মেটাতে সময় বের করছেন।
সম্প্রতি তিনি ডিরেক্টরস গিল্ড (DGA) এর মনোনয়নের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন এবং এই স্বীকৃতিকে তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। তিনি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আরও স্বতন্ত্র প্রকল্পে হাত দিতে চান।
লায়োনে ২০২৬ সালের গোল্ড গ্লোব, ক্রিটিক্স চয়েস এবং স্যাগ (এখন অ্যাক্টর অ্যাওয়ার্ড) মনোনয়নের পর তার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। তিনি এই স্বীকৃতিকে গভীরভাবে স্পর্শকাতর এবং কৃতজ্ঞ বলে বর্ণনা করেছেন, যা তার কাজের মূল্যায়নকে আরও দৃঢ় করেছে।
শেষে, লায়োনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তিনি এআইকে সৃজনশীল প্রক্রিয়ার সহায়ক হিসেবে দেখেন এবং এর ব্যবহারকে দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, প্রযুক্তি ও শিল্পের সমন্বয় ভবিষ্যতে নতুন গল্পের সম্ভাবনা তৈরি করবে।



