28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধসেন্টমার্টিনের কাছাকাছি আরাকান আর্মি ১৩ জেলেকে দুই দফায় আটক করেছে

সেন্টমার্টিনের কাছাকাছি আরাকান আর্মি ১৩ জেলেকে দুই দফায় আটক করেছে

২৩ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার, বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিন দ্বীপের নিকটবর্তী মিয়ানমার মংডু সীমান্তে আরাকান আর্মির সশস্ত্র সদস্যরা দুইটি আলাদা সময়ে মোট তেরজন মাছজীবীকে গ্রেফতার করেছে। প্রথমে সকালবেলায় একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ছয়জনকে আটক করে নৌকা, জাল ও ধরা মাছ জব্দ করা হয়। একই দিন দুপুরের দিকে আরেকটি নৌকায় সাতজনকে একই পদ্ধতিতে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রথম গ্রেফতারকালে আটকে যাওয়া ছয়জনের মধ্যে সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ (৬০), মো. হামিদ হোসেন (৪৫), জসিম উদ্দিন (১৮), মো. হারুন মিয়া (৪০) এবং শামলাপুরের মো. হাবিবুল্লাহ (৬০) ও তার পুত্র মো. হাসেম (১৫) অন্তর্ভুক্ত। বাকি সাতজনের পরিচয় এখনও প্রকাশিত হয়নি।

স্থানীয় জেলায় কাজ করা আলাউদ্দিন জানান, জেলেরা মাছ শিকারের জন্য সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পশ্চিমে মংডু সংলগ্ন জলে গিয়েছিল এবং তখনই আরাকান আর্মি তাদের নৌকা ও সরঞ্জাম জব্দ করে। তিনি উল্লেখ করেন, গ্রেফতারকৃত জেলেদের কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগের নথি এখনো পাওয়া যায়নি।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী প্রথমে ছয়জন জেলে এবং পরে আরও সাতজন জেলে গ্রেফতার হয়েছে, মোট তেরজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আটকের পর নৌকা ও জাল দুটোই আরাকান আর্মি দখল করেছে।

টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম জানান, বর্তমানে গ্রেফতারকৃত জেলেদের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সংস্থাকে জানানো হয়নি, তবে তদন্ত চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি দ্রুত স্পষ্ট করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

অধিকাংশ আইন অনুযায়ী, সশস্ত্র গোষ্ঠী দ্বারা নাগরিককে জোরপূর্বক আটক করা গৃহযুদ্ধের সময়ের অপরাধের মধ্যে পড়ে এবং তা আইনের অধীনে কঠোর শাস্তির যোগ্য। স্থানীয় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে ঘটনাটির তদন্তের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।

এই ঘটনার ফলে সেন্টমার্টিন ও শামলাপুরের মাছজীবী সম্প্রদায় উদ্বিগ্ন, কারণ মাছধরা তাদের প্রধান আয়স্রোত। নৌকা ও জাল জব্দ হওয়ায় তাদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে নিরাপদে মাছ ধরার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে।

অধিক তথ্য সংগ্রহের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা দপ্তরকে জোরালোভাবে অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে গ্রেফতারকৃত জেলেদের মুক্তি ও নৌকা-সরঞ্জামের ফেরত নিশ্চিত করা যায়।

এই বিষয়টি দেশের অন্যান্য তীরবর্তী অঞ্চলে ঘটিত অনুরূপ ঘটনার সঙ্গে তুলনা করে দেখা হলে, সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রমের পরিধি ও প্রভাব সম্পর্কে বিস্তৃত বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

বঙ্গোপসাগরে আরাকান আর্মির এই ধরনের কার্যক্রমের ফলে স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে এবং ভবিষ্যতে সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments