বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বুধবার একটি জরুরি বোর্ড বৈঠক অনুষ্ঠিত করবে। বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম, যাকে সাধারণত বুলবুল নামে চেনা যায়, নিরাপত্তা বিষয়ক সব দিক ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নির্দেশনা মেনে চলা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণই প্রধান দায়িত্ব।
বিসিবি মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসপিএ) কর্মশালার পর বুলবুল এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমাদের মূল কাজ মাঠে গেমটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা, আর নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর নির্দেশনা মেনে চলা।” এভাবে তিনি বোর্ডের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতি স্পষ্ট করেন।
বিএফএল (বেঙ্গালুরু প্রিমিয়ার লিগ) ২৬ ডিসেম্বর সিলেট থেকে শুরু হবে এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে চট্টগ্রামে ৫ থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়সূচি অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ের ম্যাচগুলো সিলেটে শেষ হবে, এরপর চট্টগ্রামে স্থানান্তরিত হবে।
চট্টগ্রামে দ্বিতীয় পর্যায়ের পর টুর্নামেন্ট ঢাকা ফিরে যাবে কিনা তা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বুলবুল স্পষ্ট করে বলেন, “চট্টগ্রাম পর্যায়ে টুর্নামেন্ট চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কোনো প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।” তাই আগামী সপ্তাহে ঢাকা ফিরে আসার সম্ভাবনা এখনও উন্মুক্ত।
বৈঠকের এজেন্ডায় নতুন অর্গানোগ্রাম অনুমোদনও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বুলবুল জানান, “বাহ্যিক এইচআর অডিট রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা বোর্ডের সামগ্রিক অর্গানোগ্রাম পরিবর্তন করেছি, যা আগামীকাল অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।” এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর জন্য বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে, যা একই বৈঠকে আলোচনা হবে।
বিএফএল সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে পাশাপাশি অন্যান্য ছোটখাটো বিষয়গুলোকে এই বৈঠকের মূল আলোচনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বুলবুলের মতে, টুর্নামেন্টের সুষ্ঠু পরিচালনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখনো অগ্রাধিকার।
বিসিবি-র সিসিডিএম (সেন্ট্রাল ক্রেডিট ডিফল্ট ম্যানেজমেন্ট) চেয়ারম্যান আদনান রহমান দিপন গত বছর মে মাসে ফরুক আহমেদকে বোর্ডের সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর বোর্ডে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন। দিপনের মন্তব্যকে বুলবুল ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে খারিজ করেন। তিনি বলেন, “দুর্নীতির অভিযোগগুলো ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি, বোর্ডের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়।”
এই প্রসঙ্গে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ গঠন ও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। বাহ্যিক অডিটের ফলাফল অনুযায়ী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নতুন নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বোর্ডের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিসিবি নিরাপত্তা সংক্রান্ত সকল নির্দেশনা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন করবে। বুলবুলের মতে, “যেকোনো পরিস্থিতিতে আমরা সংশ্লিষ্ট সংস্থার নির্দেশনা মেনে চলব এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সর্বদা সতর্ক থাকব।” এই নীতি টুর্নামেন্টের সুষ্ঠু চলাচল নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিএফএল-এর সূচি অনুযায়ী, সিলেটের স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচের সূচনা হবে ২৬ ডিসেম্বর, যেখানে দেশীয় ও বিদেশি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ প্রত্যাশিত। দ্বিতীয় পর্যায়ে চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম ব্যবহার করা হবে, যেখানে স্থানীয় ভক্তদের বড়ো পরিমাণে উপস্থিতি আশা করা যায়।
বিসিবি এই দুই পর্যায়ের মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন করবে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী ও প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। বুলবুল জোর দিয়ে বলেন, “সকল স্টেডিয়াম, হোটেল ও পরিবহন ব্যবস্থা নিরাপদ রাখতে আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করব।” এই প্রতিশ্রুতি ভক্ত ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের পরবর্তী দিনগুলোতে অর্গানোগ্রাম অনুমোদন ও নতুন পদগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। বোর্ডের এই পদক্ষেপগুলোকে ক্রিকেটের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পৌঁছানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিসিবি সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সকল নির্দেশনা ও পরিকল্পনা সরকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন করা হবে। বুলবুলের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, “আমরা নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব নির্দেশনা মেনে চলব এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নেব।” এভাবে বোর্ডের নিরাপত্তা নীতি ও টুর্নামেন্টের সুষ্ঠু পরিচালনা একসাথে নিশ্চিত করা হবে।
বিসিবি এই বৈঠকের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের সুষ্ঠু পরিচালনা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বোর্ডের কাঠামোগত পুনর্গঠনকে অগ্রাধিকার দেবে। ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণে এবং ক্রিকেটের স্বচ্ছতা বাড়াতে এই সব পদক্ষেপের গুরুত্ব অপরিসীম।



