কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলা থেকে ৩৫ বছর বয়সী রাসেল মুন্সি ২৩ দিন ধরে অদৃশ্য। শেষবার তাকে ৩০ নভেম্বর সন্ধ্যা ছয়টায় দেখা গিয়েছিল; তার মোবাইল ফোন একই সময়ে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
রাসেল মুন্সি চান্দিনা সদর মহারং মুন্সি বাড়ির মনিরুল ইসলাম মুন্সির বড় ছেলে। পরিবার জানায়, তিনি নিয়মিতই বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের কোরপাই গ্রামাঞ্চলের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে সময় কাটাতেন। এই ঘরটি তিনি এবং তার বন্ধুরা প্রায় প্রতিদিন ব্যবহার করতেন।
নিখোঁজের পর, রাসেলের ছোট ভাই মাসুদ রানা ৭ ডিসেম্বর চান্দিনা থানা-তে নিখোঁজ ডায়েরি দাখিল করেন। ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাসেল শেষবার তার মোবাইল বন্ধ হওয়ার পর থেকে কোনো যোগাযোগের চিহ্ন দেখায়নি।
পরিত্যক্ত ঘরের সন্ধান পাওয়ার পর, পরিবার সদস্যদের সঙ্গে পুলিশকে নিয়ে গিয়ে ঘরের তলায় অনুসন্ধান চালানো হয়। তলায় বালির নিচে একটি স্বর্ণের দোকানের ব্যাগ এবং আতরের ছোট বোতল পাওয়া যায়। একই সঙ্গে মেঝে ও দেয়ালে রক্তের দাগের চিহ্নও সনাক্ত করা হয়েছে। তবে ঘরে রাসেল নিজে কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
পুলিশের তদন্বেষণ দল রক্তের দাগের নমুনা সংগ্রহের জন্য সিআইডি টিমকে ডেকে নিয়ে আসে। সিআইডি দল现场 থেকে রক্তের নমুনা ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্তে ব্যবহার করবে।
নিখোঁজের ঘটনার পর, চান্দিনা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ১৫ ডিসেম্বর সন্দেহভাজন তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কোনো ব্যবহারিক তথ্য পাওয়া যায়নি, ফলে অতিরিক্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
রাসেলের স্ত্রী রুমা আক্তার জানান, তার স্বামী কখনো ফোন রিসিভ না করে না এবং সবসময় ছোট আতরের বোতল সঙ্গে রাখতেন। তিনি উল্লেখ করেন, কোরপাই গ্রামের পরিত্যক্ত ঘরে রক্তের দাগ, ব্যাগ ও আতরের বোতল পাওয়া সত্ত্বেও রাসেল কোথায় আছেন তা এখনও অজানা। রুমা তার চার বছর বয়সী শিশুর ডাক শোনার অনুরোধও করেন।
চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ আতিকুর রহমান জানান, সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এবং নিখোঁজ ডায়েরির ভিত্তিতে অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সিআইডি টিম ঘরে গিয়ে রক্তের নমুনা ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছে।
আদালত রিমান্ডের আবেদন অনুমোদন করলে সন্দেহভাজনদের অতিরিক্ত জিজ্ঞাসাবাদে পাঠানো হবে। রিমান্ডের শর্তে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হলে তদন্তের অগ্রগতি ত্বরান্বিত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে পুলিশ রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য ফরেনসিক প্রমাণের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের সঙ্গে পুনরায় সাক্ষাৎকারের পরিকল্পনা করছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, রক্তের দাগের উৎস ও ব্যাগের বিষয়বস্তু নির্ধারণে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।
রাসেল মুন্সির নিখোঁজের ব্যাপারে স্থানীয় জনগণ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা দাবি করে, তদন্ত দ্রুততর হওয়া দরকার এবং গ্রেফতারকৃতদের থেকে সঠিক তথ্য পাওয়া উচিত। পরিবারও পুলিশকে আহ্বান জানিয়েছে, যেন রুমা আক্তার ও তার শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
সামগ্রিকভাবে, রাসেল মুন্সির নিখোঁজের তদন্ত এখনো চলমান। পরিত্যক্ত ঘরে পাওয়া রক্তের দাগ, ব্যাগ ও আতরের বোতল প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ ও সিআইডি দল বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছে। আদালতের রিমান্ড অনুমোদনের পর সন্দেহভাজনদের অতিরিক্ত জিজ্ঞাসাবাদে পাঠানো হবে, যা নিখোঁজের সন্ধানে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।
এই মামলায় আইনগত প্রক্রিয়া ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ একসঙ্গে কাজ করছে। তদন্তের ফলাফল এবং আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করে শেষ পর্যন্ত রাসেল মুন্সির অবস্থান ও ঘটনার প্রকৃত কারণ প্রকাশ পাবে।



