জার্মানির শীর্ষ ১৪টি নারী ফুটবল ক্লাব ২০২৪ সালের শেষের দিকে ডিএফবির (জার্মান ফুটবল ফেডারেশন) থেকে আলাদা হয়ে নিজস্ব নারী বুন্ডেসলিগা সংস্থা গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য লিগের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় জার্মানির অবস্থান শক্তিশালী করা। সংস্থার কার্যক্রম ২০২৭-২০২৮ মৌসুম থেকে শুরু হবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ইনট্রাখ্ট ফ্রাঙ্কফুর্টের নারী ফুটবলের প্রধান ক্যাথারিনা কিল, ৩৩ বছর বয়সী প্রাক্তন বুন্ডেসলিগা খেলোয়াড়, এই নতুন সংস্থার প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি ক্লাবের দায়িত্বে থাকাকালীন দুই বছর আগে এই প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানান, কারণ জার্মানির নারী ফুটবলের শীর্ষ স্তরের সঙ্গে সংযোগ ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যাচ্ছিল।
কিলের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জার্মানির প্রতিযোগিতামূলকতা বজায় রাখতে এবং খেলোয়াড়দের বিদেশে যাওয়া রোধ করতে ক্লাবগুলোকে একত্রিত হয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে লিগ পরিচালনা করা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, ইংল্যান্ডের নারী সুপার লিগের দ্রুত উন্নয়ন জার্মানির জন্য একটি সতর্কতা হিসেবে কাজ করেছে। ইংল্যান্ডে ২০২২ সালের ইউরোফাইনালসের পর শিল্পের বর্ধিত গতি এবং ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আয় বৃদ্ধি সমানভাবে না হওয়ায় জার্মানির ক্লাবগুলোকে নিজেদের আর্থিক কাঠামো পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে।
ডিএফবির অধীনে লিগের উন্নয়ন সীমিত থাকায় ক্লাবগুলোকে স্বতন্ত্রভাবে বিনিয়োগের সুযোগ না থাকায় এই বিচ্ছিন্নতা প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়ায়। কিল বলেন, “আমাদের কাছে দুটি পথ ছিল – বর্তমান অবস্থায় থাকা অথবা পরিবর্তনের পথে অগ্রসর হওয়া।” ক্লাবগুলো এখন নিজেদের সম্পদ ও কৌশল ব্যবহার করে লিগের ব্র্যান্ডিং, টেলিভিশন চুক্তি এবং স্পনসরশিপের নতুন সুযোগ অনুসন্ধান করবে।
নতুন সংস্থার গঠন প্রক্রিয়ায় সব ১৪টি ক্লাবের সম্মতি প্রয়োজন ছিল, যা একটি ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের সূচক। এই ক্লাবগুলোর মধ্যে বায়ার্ন মিউনিখের নারী দলও অন্তর্ভুক্ত, যা জার্মানির সবচেয়ে সফল পুরুষ ক্লাবের নারী শাখা হিসেবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। ক্লাবগুলো একত্রে লিগের নিয়মাবলী, আর্থিক মডেল এবং প্রতিযোগিতামূলক কাঠামো নির্ধারণ করবে, যাতে ভবিষ্যতে খেলোয়াড়দের জন্য আরও আকর্ষণীয় পরিবেশ তৈরি হয়।
ইংল্যান্ডের মডেল অনুসরণ করে, জার্মানির নতুন সংস্থা লিগের পেশাদারীকরণে ফোকাস করবে। এর মধ্যে টেলিভিশন সম্প্রচারের অধিকার বিক্রি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ম্যাচ স্ট্রিমিং এবং আন্তর্জাতিক স্পনসরশিপের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, যুব প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ক্লাবগুলো নিজস্ব তহবিল বরাদ্দ করবে, যা পূর্বে ডিএফবির তত্ত্বাবধানে সীমিত ছিল।
কিলের নেতৃত্বে সংস্থার প্রথম বড় পদক্ষেপ হল ক্লাবগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং একসাথে কৌশল নির্ধারণ করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “লিগের ভবিষ্যৎ আমাদের হাতে, এবং আমরা তা গড়ে তুলতে প্রস্তুত।” এই দৃষ্টিভঙ্গি ক্লাবের মালিকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে, যারা এখন লিগের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদা বাড়াতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন।
প্রতিষ্ঠার পরবর্তী ধাপগুলোর মধ্যে ২০২৭-২৮ মৌসুমের শেডিউল চূড়ান্ত করা, নতুন টেলিভিশন চুক্তি স্বাক্ষর এবং স্পনসরশিপের জন্য দরকষাকষি অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, ক্লাবগুলোকে খেলোয়াড়দের বেতন কাঠামো এবং সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা উন্নত করতে হবে, যাতে তারা বিদেশি লিগে যাওয়ার পরিবর্তে ঘরে থেকেই উচ্চমানের প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে পারে।
এই পরিবর্তন জার্মানির নারী ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ক্লাবগুলো একত্রে কাজ করে লিগের গুণগত মান এবং আর্থিক স্বাবলম্বিতা বাড়াতে চায়, যা শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করবে।
সংস্থার গঠন এবং পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং ঘোষণাপত্রে নজর দেওয়া যেতে পারে।



