যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি গত সপ্তাহান্তে টুইটারে একটি মন্তব্য করে জানিয়েছেন যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শাসনকে আমেরিকান ইতিহাসের সর্বাধিক স্বচ্ছ সরকার হিসেবে তিনি বিবেচনা করেন। এই বক্তব্যটি জুলাই মাসে ট্রাম্পের ওপর পরিকল্পিত হত্যার তদন্তের নথি প্রকাশের প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবে টুইটের নিচে মন্তব্যকারী ব্যবহারকারীরা এপস্টেইন ফাইলের গোপনীয়তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন এবং বন্ডির বক্তব্যকে মিথ্যা বলে অভিযুক্ত করেছেন।
বন্ডির পোস্টের পরপরই বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী তাকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলে অভিহিত করে তীব্র সমালোচনা প্রকাশ করেন, কিছু মন্তব্যে সরাসরি আক্রমণাত্মক শব্দ ব্যবহার করা হয়। এক প্রভাবশালী কনজারভেটিভ ইউটিউবার, যিনি বিটকয়েন প্রচারেও যুক্ত, তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি এমন কোনো প্রেসিডেন্টের পক্ষে ভোট দেবেন, যিনি প্যাম বন্ডিকে এপস্টেইন ফাইলের গোপনীয়তা লুকিয়ে রাখার জন্য দায়ী করে অভিযুক্ত করবেন।
ট্রাম্পের সমর্থক গোষ্ঠী সম্প্রতি ইন্টারনেটের প্রান্তিক অংশ থেকে নতুন ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করেছে, ফলে তাদের মধ্যে ষড়যন্ত্রমূলক ধারণা আরও বিস্তার পেয়েছে। এই গোষ্ঠী এখন স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে, যা পূর্বে তাদের মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে।
একটি ফেসবুক গ্রুপের সদস্য, যারা এপস্টেইন মামলার তথ্য অনুসন্ধানে যুক্ত, তিনি প্রকাশিত নথিগুলোকে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ কভার-আপ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং এপস্টেইনকে মূল কাহিনীর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ধরে রাখার আহ্বান জানান।
প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে বিল ক্লিনটন, মিক জ্যাগার, মাইকেল জ্যাকসন এবং প্রখ্যাত সংবাদ উপস্থাপক ওয়াল্টার ক্রনকাইটের ছবি অন্তর্ভুক্ত ছিল, তবে এই ছবিগুলো কোনো অপরাধের সূচক নয় বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন। মূল উদ্বেগের বিষয় হল নথিগুলোর মধ্যে ব্যাপকভাবে কালো রঙে আচ্ছাদিত অংশ, যা তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ট্রাম্পের ক্যাম্পেইন ট্যুরে তিনি একবার প্রকাশের পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করেছিলেন, এবং ফেব্রুয়ারিতে বন্ডি জানান যে ফাইলগুলো বর্তমানে তার ডেস্কে রয়েছে এবং পর্যালোচনার অপেক্ষায়। তবে বহু মাসের প্রত্যাশার পর শুক্রবারের প্রকাশনা খুবই সীমিত তথ্য সরবরাহ করে, ফলে সমর্থক ও সমালোচক উভয়ই হতাশা প্রকাশ করেছেন।\n
মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞান সহকারী অধ্যাপক জো ইউসিনস্কি, যিনি ষড়যন্ত্র তত্ত্বের গবেষণায় বিশেষজ্ঞ, তিনি বলেন যে ট্রাম্পের সমর্থক গোষ্ঠী এখন প্রতিষ্ঠানের প্রতি সন্দেহ এবং বিরোধিতা বাড়িয়ে তুলছে, যা ঐতিহ্যবাহী রিপাবলিকান পার্টির লক্ষ্য থেকে দূরে সরে গেছে। এই পরিবর্তন ভোটারদের মনোভাব ও পার্টির নীতি নির্ধারণে নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে এপস্টেইন ফাইলের অল্প মাত্রার প্রকাশ ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলকে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষত যখন তার সমর্থক গোষ্ঠী গোপনীয়তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে তীব্র বিতর্কে লিপ্ত। যদি অতিরিক্ত নথি প্রকাশের দাবি বাড়তে থাকে, তবে প্রশাসনিক ও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে, যা পরবর্তী নির্বাচনের সময় পার্টির ভিতরে ও বাহিরে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
বর্তমানে বন্ডি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর অতিরিক্ত নথি প্রকাশের জন্য কোন সময়সূচি নির্ধারণ করেছে না, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে ভবিষ্যতে আরও তথ্যের চাহিদা বাড়তে পারে এবং তা ট্রাম্পের সমর্থক গোষ্ঠীর অভ্যন্তরে নতুন বিভাজন বা ঐক্য গড়ে তুলতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে, এপস্টেইন ফাইলের সম্পূর্ণ প্রকাশের অপেক্ষা এবং তার রাজনৈতিক প্রভাবের বিশ্লেষণ আগামী সপ্তাহে মিডিয়ার প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।



