ঢাকায় অনুষ্ঠিত দ্য ডেইলি স্টার নির্বাচনী সংলাপে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমাবেশের প্রধান নাহিদ ইসলাম আজ বলেন, বিএনপি ও জামাত‑ই‑ইসলাম উভয়েই বর্তমান বিরোধী দলের ভোটভাণ্ডার দখলের জন্য একে অপরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, এই দলগুলো আওয়ামী লীগের সদস্যদের আকৃষ্ট করতে তাদের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলো হ্রাস বা প্রত্যাহার করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
এ বিষয়ে তিনি কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থেকে সাম্প্রতিক একটি ঘটনার উদাহরণ দেন, যেখানে প্রায় দুইশো আওয়ামী লীগ কর্মী মিডিয়া ও স্থানীয় পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্টের উপস্থিতিতে বিএনপিতে যোগদান করেছেন বলে জানানো হয়।
নাহিদের মতে, এ ধরনের ঘটনা দলীয় সীমানা অতিক্রমের একটি স্পষ্ট চিত্র এবং তিনি এটিকে ‘ইনফিলট্রেশন’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, দেশের বর্তমান অবস্থা মূলত ‘আওয়ামী লীগ প্রশ্ন’ সমাধান না হওয়ার ফলে। তিনি একটি সত্য কমিশনের প্রতিষ্ঠা দাবি করে, যারা ফ্যাসিস্ট দলকে সমর্থন করেছে এবং যারা গণহত্যা বা সন্ত্রাসে জড়িত, তাদের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।
নাহিদের মতে, ফ্যাসিস্ট দলকে সমর্থন করা নৈতিক দোষ, তবে সংশোধনের সুযোগ আছে; অন্যদিকে গণহত্যা বা সন্ত্রাসে জড়িতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
সংলাপের সময় একজন অংশগ্রহণকারী জিজ্ঞাসা করেন, আওয়ামী লীগ নেতারা নির্দিষ্ট কোনো পার্টিতে যোগ দিচ্ছেন কি না এবং তা রোধের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএনপি সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই অভিযোগকে ‘সাধারণীকরণ’ বলে খণ্ডন করেন, বলেন, তাদের পার্টিতে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং তারা সর্বদা ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে।
আলমগীর আরও যোগ করেন, বিএনপি ঐতিহাসিকভাবে স্বৈরাচারী শাসনের বিরোধিতা করেছে এবং আওয়ামী লীগের সদস্যদের পার্টিতে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো নীতি নেই।
এই সংলাপটি দ্য ডেইলি স্টার দ্বারা বাংলাদেশ‑চীন বন্ধুত্ব সম্মেলন কেন্দ্রের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়, যা আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি সত্যিই বিএনপি আওয়ামী লীগের প্রাক্তন কর্মীদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়, তবে এটি ভোটের গতি পরিবর্তন করে নির্বাচনী সমতা পুনর্গঠন করতে পারে।
অন্যদিকে, বিএনপির প্রত্যাখ্যান নির্দেশ করে যে উভয় দলই এই ধরনের অভিযোগের ওপর তীব্র বিতর্ক চালিয়ে যাবে এবং সমর্থকদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করবে।
দেবিদ্বারের ঘটনাটি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বর্ণনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে সত্য কমিশনের দাবির সঙ্গে যুক্ত হয়ে।
সামগ্রিকভাবে, এই বিতর্ক পার্টিগুলোর কৌশলগত পরিকল্পনা ও ভোটারদের সমন্বয়কে প্রভাবিত করবে, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন মোড় দিতে পারে।



