পাবনা শহরের শালগাড়িয়া, তালবাগান এলাকায় জুলাইযোদ্ধা সিরাজুম মুনিরার পিতামাতার বাসার গেটে অজানা ব্যক্তিরা লাল রঙের ক্রস চিহ্ন অঙ্কন করেছে। চিহ্নটি প্রথমবার দেখা যায় ১৯ ডিসেম্বর রাতের দিকে, তবে পরিবারটি শনিবার সকালে গেটের সামনে এই চিহ্নটি লক্ষ্য করে।
মুনিরার মা‑বাবা গেটের পাশে চিহ্নটি দেখলেও, মেয়ের মানসিক চাপ বাড়বে বলে উদ্বিগ্ন হয়ে তা সঙ্গে সঙ্গে মুনিরাকে জানাননি। তারা চিহ্নটি গোপনে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে মুনিরার মনের উপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
সিরাজুম মুনিরা রবিবার রাতে বাড়ি ফিরে পরের দিন বিকালে গেটের দিকে তাকিয়ে চিহ্নটি লক্ষ্য করেন। তৎক্ষণাৎ তিনি স্থানীয় থানা পুলিশকে মৌখিকভাবে জানিয়ে দেন যে গেটের ওপর লাল ক্রস চিহ্ন অঙ্কিত হয়েছে।
মুনিরা জানান, তিনি জুলাই আন্দোলনের সময় পাবনা থেকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে বহুবার হুমকি-ধমকির শিকার হয়েছেন। আন্দোলনের শুরু থেকেই তার পরিবারকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন রকমের হুমকি দেওয়া হয়েছে, তাই তিনি এই ঘটনার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, চিহ্নটি গৃহে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়িয়ে তুলেছে এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাজ কিনা তা স্পষ্ট নয়। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, এটি তার ও তার পরিবারের ওপর ভয় দেখিয়ে অশান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
মুনিরা এখনও থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি, তবে মৌখিকভাবে জানানোই যথেষ্ট হয়েছে বলে তিনি বলেন। তার কথায় পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে গেটের আশেপাশে নিয়মিত টহল চালু করেছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছে।
পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ দুলাল হোসেন জানান, এই ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা সিসিটিভি রেকর্ড পাওয়া যায়নি। চিহ্নটি কীভাবে এবং কারা অঙ্কন করেছে তা নির্ধারণের জন্য তদন্ত চলছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তদন্তের সময় পরিবারের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হবে।
থানার কর্মকর্তারা গেটের আশেপাশে রাত্রি-দিবস টহল চালিয়ে যাচ্ছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করার চেষ্টা করছে। এছাড়া, গৃহমালিকদের নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত আলো ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই মুহূর্তে কোনো সন্দেহভাজন বা অপরাধীর নাম প্রকাশিত হয়নি, তবে তদন্তের অগ্রগতি অনুসারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। পরিবারটি নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত উদ্বিগ্ন অবস্থায় রয়েছে, এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।



