ঢাকার বাংলাদেশ‑চীন বন্ধুত্ব সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত স্টার ইলেকশন ডায়ালগে জামাত‑ই‑ইসলামির সহকারী সচিব জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ দেশের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন। ইভেন্টটি দ্য ডেইলি স্টার সংগঠিত করে, অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্নের উত্তর দিতে আয়োজন করা হয়।
আজাদের বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যা তিনি ‘মায়ের কোলে শিশুর মতো নিরাপদ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের নিরাপদ পরিবেশই দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অপরিহার্য।
বক্তা ‘নতুন বাংলাদেশ’ গঠনের কথা উল্লেখ করে, যেখানে ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে সমাজ গড়ে তোলা হবে। তিনি এই দৃষ্টিভঙ্গিকে দেশের উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন।
অবৈধ লেনদেন ও দুর্নীতিকে দেশের অস্থিতিশীলতার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে, আজাদ শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, দুর্নীতি নির্মূল না হলে কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয়।
দুর্নীতির মূল উৎস হিসেবে পুলিশ ও সরকারি কর্মচারী গোষ্ঠীর নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের অভাবকে উল্লেখ করেন। এই সমস্যার সমাধান না হলে সেবা ক্ষেত্রের স্বচ্ছতা বজায় রাখা কঠিন হবে।
দুর্নীতি শূন্যে নামিয়ে আনা হলে দেশের উন্নয়ন দ্রুতগতি পাবে, এমন তার দৃঢ় বিশ্বাস। তিনি এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য কঠোর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন।
শূন্য সহনশীলতা নীতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি, ভাল শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এই দুই নীতি একসঙ্গে না থাকলে দেশের ভিত্তি দুর্বল হবে।
শিক্ষা খাতে বর্তমান বাজেটের মাত্রা ১.৬৯ শতাংশ জিডিপি, যা তিনি অপর্যাপ্ত বলে সমালোচনা করেন। এই সীমাবদ্ধতা দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে।
শিক্ষা বাজেটকে জিডিপির ৬ শতাংশে বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা প্রকাশ করে, সব স্তরে টিউশন ফ্রি ব্যবস্থা চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনে জোর দেবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষা পাঠ্যক্রমে নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্য তিনি তুলে ধরেন। এ ধরনের সমন্বয় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক দিশা দেখাবে।
মেধা রপ্তানির সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে, বিদেশে কাজ করা বাংলাদেশি তরুণদের দেশীয় গবেষণা সুবিধা কম থাকায় দেশকে ক্ষতি হচ্ছে বলে তিনি বলেন।
এই সমস্যার সমাধানে গবেষণা কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়ে, দেশীয় গবেষণা পরিবেশ উন্নত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। ফলে তরুণরা বিদেশে না গিয়ে নিজের দেশে অবদান রাখতে পারবে।
যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান ও গবেষণা সুযোগ সৃষ্টি করে, দেশের উন্নয়নে সরাসরি অংশগ্রহণের পরিবেশ গড়ে তোলার ইচ্ছা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। এভাবে মেধা রপ্তানি বন্ধ হয়ে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে।
আজাদের এই পরিকল্পনা ও নীতিগুলো দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। পরবর্তী সময়ে এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে কী ধাপ নেওয়া হবে, তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।



