ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম সোমবার রাত নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক প্রোফাইলে সরকারী গানম্যান প্রদান প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেশের নিরাপত্তা নীতি নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার জুলাই বিপ্লবের ছাত্র নেতৃত্ব, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধান ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গানম্যান সরবরাহের পরিকল্পনা করেছিল। এই প্রস্তাবের বিষয়ে তাকে সরকারী দপ্তর থেকে অবহিত করা হয় এবং তিনি তা গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেন।
কায়েমের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, হঠাৎ হত্যাকাণ্ডের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান ও ন্যায়সঙ্গত পরিবর্তন। তবে বাস্তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা অনুপস্থিত এবং বিভিন্ন দপ্তরে ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রভাব জননিরাপত্তা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি বলেন, যদি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়ভাবে কাজ করে এবং সন্ত্রাসীদের কঠোর বিচারের আওতায় আনে, তবে নিরাপত্তা নিয়ে এত উদ্বেগ থাকত না।
কায়েম আরও উল্লেখ করেন, শীর্ষ সন্ত্রাসীরা জামিনে মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাদের হাতে ওসমান হাদিরা শহীদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, অথচ হত্যাকারীরা ধরা পড়ছে না। এদিকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান সরবরাহের প্রস্তাব আসছে, যা তিনি ন্যায়সঙ্গত নয় বলে বিবেচনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিরাপত্তা যদি কেবল কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা সমাজের ন্যায়বিচারকে ক্ষুন্ন করবে।
ভিপি সাদিক কায়েমের মতে, দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ছাত্র-জনতা, এখনও অনিরাপদ অবস্থায় রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা যদি সমগ্র জনগণের জন্য সমানভাবে কাজ না করে, তবে তা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারকে দুর্বল করবে। তাই তিনি ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান গ্রহণের পরিবর্তে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকরী ভূমিকা ও ন্যায়সঙ্গত বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নেন।
কায়েমের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হল, নিরাপত্তা কেবল নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য নয়, সমগ্র দেশের জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করা। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারী গানম্যান প্রস্তাব গ্রহণ করলে তা নিরাপত্তার বৈষম্যকে বাড়িয়ে তুলবে, যা তিনি ন্যায়সঙ্গত মনে করেন না। তার মতে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা যদি সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ না হয়, তবে তা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোকে দুর্বল করবে।
এই প্রকাশের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, কায়েমের এই পদক্ষেপ সরকারী নিরাপত্তা নীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকরী ভূমিকা বাড়াতে পারে। এছাড়া, গানম্যান প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে তিনি সরকারকে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। ভবিষ্যতে এই বিষয়টি কীভাবে বিকশিত হবে তা রাজনৈতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।



