কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা-তে অনুষ্ঠিত স্টার ইলেকশনস ডায়ালগে বাজারমূলক নীতির অধীনে সংসদ ও মন্ত্রিপদীয় পদগুলো পণ্যিকরণ হওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি দ্য ডেইলি স্টার দ্বারা বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্ব সম্মেলন কেন্দ্রের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়। সেলিমের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল অর্থনৈতিক কাঠামো পরিবর্তন না করলে রাজনৈতিক দুর্নীতি ও ঘুষের চক্র থেকে বের হওয়া কঠিন।
সেলিম বলেন, অর্থনীতির দিক থেকে যদি চুরি-চাঁদা চালু থাকে, তবে রাজনীতিও একই রকম হবে। তিনি যুক্তি দেন, রাজনীতি মূলত অর্থনীতির এক ঘনিষ্ঠ প্রকাশ এবং বাজারের স্বার্থে চালিত হলে রাজনৈতিক পদগুলো সম্পদের বিনিময়ে বিক্রি হয়ে যায়। এ ধরনের পরিস্থিতি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে ব্যাহত করে।
বক্তা আরও উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল পুঁজিবাদী রাষ্ট্র গঠন নয়, বরং সমাজতান্ত্রিক ভিত্তিতে নতুন সমাজ গড়ে তোলা। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও এই আদর্শ পূরণ হয়নি এবং দেশের বর্তমান নীতি-নির্ধারণে তা অনুপস্থিত।
গভীর বিশ্লেষণে সেলিম বর্তমান শাসনব্যবস্থার উপরে-নিচে উন্নয়ন পদ্ধতিকে সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, পরিকল্পনা কমিশনের শীতল কক্ষ থেকে পরিকল্পনা তৈরি করা যথেষ্ট নয়; পরিকল্পনা গ্রাম, ইউনিয়ন ও থানা স্তর থেকে উঠে আসা দরকার। এভাবে স্থানীয় স্তরে অংশগ্রহণ বাড়িয়ে বাস্তবায়নযোগ্য নীতি গঠন সম্ভব হবে।
সেলিমের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে জাতীয় বাজেটের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থানীয় সরকারকে বরাদ্দের বিধান, যা সরকার পরিবর্তন সত্ত্বেও বজায় থাকবে। তিনি পূর্বের এরশাদ শাসনের সময়ের বিকেন্দ্রীকরণকে “অধিকারের বিকেন্দ্রীকরণ” বলে সমালোচনা করে, প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণে আর্থিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার দাবি তোলেন।
ইলেক্টোরাল প্রক্রিয়ায় অর্থের প্রভাবের ওপরও সেলিমের তীব্র মন্তব্য শোনা যায়। তিনি প্রার্থীদের নিরাপত্তা জমা ৫০,০০০ টাকায় বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সমালোচনা করে বলেন, দেশের একজন কৃষক শ্রমিকের জীবনে একবারে এমন পরিমাণ অর্থ দেখা কঠিন। এই পদক্ষেপকে তিনি প্রায়শই দরিদ্র ভোটারদের ভোটাধিকার হ্রাসের রূপে দেখেন।
সেলিমের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, সিপিবি যদি এই আর্থিক ও প্রশাসনিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেয়, তবে তা দেশের বামপন্থী গোষ্ঠীর মধ্যে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া, স্থানীয় স্তরে বাজেটের স্বয়ংক্রিয় বরাদ্দের দাবি যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে গ্রামীণ উন্নয়ন ও সেবা প্রদানেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।
সিপিবি প্রেসিডিয়াম সদস্যের এই মন্তব্যগুলো দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে অর্থনৈতিক নীতি ও বিকেন্দ্রীকরণের গুরুত্বকে পুনরায় উন্মোচন করেছে। তিনি শেষ পর্যন্ত উল্লেখ করেন, বাজারের মৌলিকতাবাদী নীতি যদি অব্যাহত থাকে, তবে রাজনৈতিক পদের পণ্যিকরণ বাড়বে এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের সমালোচনা ও প্রস্তাবনা কীভাবে সরকার ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল গ্রহণ করবে, তা দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



