ঢাকা শহরের আনোয়ারা এলাকায় গত রাতের অপারেশনে নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) স্বর্ণ চুরির সঙ্গে জড়িত একটি সক্রিয় চোরচক্রের চারজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারের মধ্যে রয়েছে সালাউদ্দিন (উপনাম সেতু) এবং মো. জসিম, মোস্তাকিন হোসেন, মো. ইসমাইল।
পুলিশ জানায়, চোরদের দীর্ঘদিনের শখ পূরণে তারা চুরি করা স্বর্ণ বিক্রি করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার বেশি অর্থ সংগ্রহ করে। সেই অর্থের একটি অংশ ব্যবহার করে তারা ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকায় একটি রয়েল এনফিল্ড মোটরসাইকেল কিনে। গাড়িটি অপারেশনের সময়ই উদ্ধার করা হয়।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান উল্লেখ করেন, গ্রেপ্তার হওয়া চারজনই সক্রিয় চোরচক্রের সদস্য এবং প্রত্যেকের বিরুদ্ধে চার থেকে পাঁচটি পর্যন্ত মামলা চলমান। তারা চুরি করা স্বর্ণের বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত অর্থ ভাগাভাগি করে চলত।
সালাউদ্দিন দীর্ঘদিনের শখ পূরণে চুরির টাকায় কেনা রয়েল এনফিল্ড মোটরসাইকেলটি পুলিশ উদ্ধার করেছে। তিনি ও তার সঙ্গীরা স্বর্ণটি সোনা টেরিবাজার এলাকার একটি দোকানে বিক্রি করতেন। ঐ দোকানটি অভিযানের সময় বন্ধ হয়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা ছেড়ে গিয়েছিল।
পুলিশের মতে, স্বর্ণ বিক্রির সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তকালে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চোরচক্রের সদস্যরা স্বর্ণের গুদামজাত ও বিক্রয় প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধাপের মধ্য দিয়ে গিয়েছিল, যার ফলে বড় পরিমাণে নগদ অর্থ সঞ্চিত হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের পাশাপাশি, স্বর্ণ বিক্রির সঙ্গে যুক্ত অন্য কয়েকজন সন্দেহভাজনও অনুসন্ধানের অধীনে আছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট দোকান ও গুদামস্থলগুলোতে নজরদারি বাড়িয়ে চলেছে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালু করেছে।
ডিবি কর্তৃক প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, চোরচক্রের সদস্যরা পূর্বে বিভিন্ন ধরণের চুরি, ডাকাতি ও জালিয়াতির অভিযোগে দায়ী ছিলেন। তাদের অপরাধের পরিসর বিস্তৃত এবং প্রায়শই স্বর্ণ, গহনা ও মূল্যবান ধাতু বিক্রির মাধ্যমে অর্থায়ন করা হতো।
অভিযানের সময়, পুলিশ স্বর্ণ বিক্রির দোকানটি বন্ধ করে দেয় এবং সংশ্লিষ্ট মালিকদের গ্রেফতার করার চেষ্টা করে, তবে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। দোকানটি এখন বন্ধ অবস্থায় রয়েছে এবং তদন্তের জন্য ফরেনসিক দলকে পাঠানো হয়েছে।
মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান আরও জানান, গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের পাশাপাশি, চোরচক্রের অন্যান্য সদস্যদেরও দ্রুত গ্রেফতার করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, চোরদের অপরাধমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় ব্যবসায়িক সংস্থা ও স্বর্ণ বিক্রেতারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তারা দাবি করছেন, স্বর্ণের লেনদেনের সময় যথাযথ রেকর্ড রাখা এবং পুলিশে রিপোর্ট করা অপরিহার্য।
পুলিশের মতে, স্বর্ণ চুরির সঙ্গে যুক্ত অপরাধীরা প্রায়ই গোপনীয়তা বজায় রাখতে বিভিন্ন ধরণের কৌশল ব্যবহার করে। তাই, স্বর্ণের ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়ায় সতর্কতা অবলম্বন করা এবং সন্দেহজনক লেনদেনের ক্ষেত্রে তৎক্ষণাৎ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানানো জরুরি।
অভিযানটি রাত ৯টার পর শুরু হয় এবং প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে চারজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া চালু করা হবে।
এই ঘটনার পর, নগর গোয়েন্দা পুলিশ স্বর্ণ চুরির সঙ্গে যুক্ত অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলার জন্য অতিরিক্ত রিসোর্স বরাদ্দের কথা জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধে জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেছে।



