বনানী হোটেল শেরাটনে মঙ্গলবার জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) সমাবেশে জাতীয় পার্টি‑জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমকে তীব্রভাবে সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এনডিএফ, যা জেপি ও আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির একটি অংশ, মোট ২০টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত এবং এই সমাবেশে ১১৯টি সংসদীয় আসনের জন্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। প্রার্থীর সংখ্যা ও দলীয় গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে মঞ্জু বলেন, এই পদক্ষেপটি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন বিকল্প তৈরি করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
মঞ্জু নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগের অভাব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কমিশনের প্রধান সকলকে ডাকছেন, তবু তাদের দিক থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় তারা হতাশ। এই পরিস্থিতি নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা হ্রাসের দিকে নিয়ে যেতে পারে, এ কথায় তিনি সতর্কতা জানান।
তারপর তিনি ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের অতিরিক্ত প্রভাবের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, যারা শাসনক্ষমতায় থাকে তারা সর্বোচ্চ শক্তি অর্জন করে এবং সাধারণ নাগরিকের অধিকারকে সীমিত করতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি দাবি করেন, সরকার ও কমিশনকে সমানভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে, যাতে কোনো একক গোষ্ঠী অতিরিক্ত ক্ষমতা না পায়।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু নির্বাচন সংক্রান্ত আইনগত শৃঙ্খলার অবনতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি আইনগত কাঠামো দুর্বল হয়ে যায়, তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও জালিয়াতি বাড়তে পারে। তাই তিনি সরকারকে আহ্বান জানান, যেন তারা এমন কোনো পরিবেশ তৈরি না করে, যেখানে ভোটারদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ হুমকির মুখে পড়ে।
মঞ্জু আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে প্রভাবিত করে না, বরং তাদেরকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, এমন মামলাগুলি কেবল সময়ের অপচয় নয়, বরং দেশের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা ক্ষয় করে।
এই সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে মঞ্জু ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এনডিএফের প্রার্থী তালিকা ভোটারদের কাছে নতুন বিকল্প হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে এবং নির্বাচনী পরিবেশে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি তিনি সরকারকে আহ্বান জানান, যেন তারা নির্বাচনের পূর্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ না থাকে।
সমাবেশের শেষে মঞ্জু পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করে সকল পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর, যেখানে সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলো একসাথে কাজ করে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচনে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতা হবে এবং দেশের উন্নয়নের পথে অগ্রগতি নিশ্চিত হবে।



