20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ওপর হিন্দু উগ্রগোষ্ঠীর বিক্ষোভ, ভার্মাকে তলব

দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ওপর হিন্দু উগ্রগোষ্ঠীর বিক্ষোভ, ভার্মাকে তলব

দিল্লির কূটনৈতিক জেলায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভবন ও শিলিগুড়ি ভিসা সেন্টারের ওপর ২৩ ডিসেম্বর বিকালে হিন্দু উগ্রগোষ্ঠীর বিক্ষোভে নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। ত্রিপাক্ষিক নিরাপত্তা স্তর ভেঙে ঢোকার প্রচেষ্টা পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে ধাক্কা-ধাক্কি সৃষ্টি করে।

বিক্ষোভকারী গোষ্ঠীর মধ্যে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP), বজরং দল এবং বামপন্থী নেতাকর্মীরা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তারা নিরাপত্তা গেট ভেঙে প্রবেশের সময় লাঠিচার্জের সম্মুখীন হয় এবং কিছু অংশে লাঠি ও গ্যাসের ব্যবহার করা হয়।

বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে গত সপ্তাহে ময়মনসিংহে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ উল্লেখ করা হয়। দাসের হত্যার পর উগ্রগোষ্ঠীসমূহ দিল্লিতে সমাবেশের আহ্বান জানিয়ে, তার ন্যায়বিচার দাবি করে সড়কে নেমে আসে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এস.এম. মাহবুবুল আলমের মতে, প্রণয় ভার্মা, যিনি ভারতের হাইকমিশনার,কে তলব করে হাইকমিশনের নিরাপত্তা ও শিলিগুড়ি ভিসা সেন্টারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ভার্মা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং বাংলাদেশ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছে।

ভার্মা এই তলবের পর ভারতের পক্ষ থেকে বিষয়টি তৎক্ষণাৎ তদন্তের এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা লঙ্ঘনের কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে অতিরিক্ত গার্ড ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গৃহীত হবে।

দিল্লির শিলিগুড়ি ভিসা সেন্টার বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। আলম জানান, সেন্টারটি আপাতত বন্ধ থাকবে এবং পুনরায় খোলার সময়সূচি নির্ধারিত হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে অবহিত করা হবে। এই সিদ্ধান্তটি নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা ‘ভারত মাতা কি জয়’, ‘ইউনূস সরকার হোশ মে আও’ এবং ‘হিন্দু হত্যা বন্ধ করো’ স্লোগান দিয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করে। পাশাপাশি দীপু দাসের ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নেয়া দেখা যায়।

এই ঘটনাটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গত এক বছর থেকে দুই বছর ধরে উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক বিভিন্ন মানবাধিকার ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতা সংক্রান্ত বিষয়ের কারণে চাপের মুখে রয়েছে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, হাইকমিশনের ওপর সরাসরি আক্রমণ কেবল দু’দেশের কূটনৈতিক সংলাপকে নয়, সীমান্ত পারাপার ভিসা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমকেও প্রভাবিত করতে পারে। নিরাপত্তা লঙ্ঘন ঘটলে ভবিষ্যতে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা দেখা যায়।

আসন্ন সপ্তাহে ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ই নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন এবং কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোকে সক্রিয় করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবে বলে আশা করা যায়। উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের আয়োজনের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।

বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা দু’দেশের মধ্যে সংলাপের গুরুত্ব ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতা মোকাবিলায় সমন্বিত নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে নিরাপত্তা প্রোটোকল ও কূটনৈতিক নিরাপত্তা নীতিমালা শক্তিশালী করা প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments