মঙ্গলবার সন্ধ্যা প্রায় সাতটায়, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের ভারতীয় দূত ও দক্ষিণ‑মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। দুই দেশের প্রতিনিধিরা প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে বাণিজ্য, শুল্ক, আসন্ন নির্বাচন এবং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন।
ইউনূস ফোনালাপে উল্লেখ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণভাবে সজ্জিত। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রায় পঞ্চাশ দিন বাকি রয়েছে এবং সরকার একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের পর জনগণ অধীর আগ্রহে ভোটাধিকার ব্যবহার করতে চায়। দীর্ঘকালীন শাসন থেকে মুক্তি পেয়ে এখন মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে প্রস্তুত, এটাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
ইউনূস একই সঙ্গে পূর্ব শাসনের সমর্থকদের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত করার প্রচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই গোষ্ঠী লক্ষ লক্ষ ডলার ব্যয় করে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা করছে এবং তাদের পলাতক নেতা জনসমক্ষে সহিংসতা উস্কে দিচ্ছেন।
এ ধরনের হুমকির মুখেও সরকারকে কোনো বাধা না দিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, যেকোনো ধরণের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সাফল্য নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এই নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় করে তোলাই সরকারের উদ্দেশ্য।
ফোনালাপে বাণিজ্য ও শুল্ক বিষয়ক আলোচনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত গর, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি নিয়ে আলোচনা করার সময়, ইউনূসের নেতৃত্বে সফল শুল্ক আলোচনার ফলাফলকে প্রশংসা করেন। এই আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক শুল্ক হার ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
শুল্ক হ্রাসের ফলে দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে উভয় পক্ষই আশাবাদ প্রকাশ করেন। এই পদক্ষেপটি বাংলাদেশের রপ্তানি শিল্পের জন্য বিশেষভাবে উপকারী বলে উল্লেখ করা হয়।
আলোচনার একটি অংশে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটিত শ্রীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ড ও তার পরবর্তী দাফন অনুষ্ঠানের ব্যাপক অংশগ্রহণের বিষয়ও উঠে আসে। গর এই বিষয়টি উল্লেখ করে, ঘটনাটির আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানবিক দিক নিয়ে মত বিনিময় করেন।
ফোনালাপে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ। তারা সকলেই নির্বাচনের নিরাপত্তা ও সফলতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন।
সারসংক্ষেপে, প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের বক্তব্য এবং ফোনালাপের বিষয়বস্তু স্পষ্ট করে যে, সরকার নির্বাচনের পূর্বে যে কোনো সম্ভাব্য বাধা অতিক্রম করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। শুল্ক হ্রাস, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা—all এই বিষয়গুলো একত্রে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতির ভিত্তি গড়ে তুলবে।



