বেঙ্গালুরুর এম. চিন্নাসওয়ামি স্টেডিয়াম থেকে ভিকি হাজারে ট্রফির সব ম্যাচ নিরাপত্তা ও লজিস্টিক সমস্যার কারণে স্থানান্তর করার নির্দেশ কর্ণাটক স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (কেএসসিএ) পেয়েছে। এতে ভারতীয় দলের ক্যাপ্টেন বিরাট কোহলি ও উইকেটকিপার রিশাভ পান্তের ম্যাচও অন্তর্ভুক্ত।
প্রথমে আলুর থেকে চিন্নাসওয়ামিতে স্থানান্তরিত হওয়া এই ম্যাচগুলো এখন আবার বদলে যাবে। কেএসসিএকে মঙ্গলবার সকালে কর্ণাটক সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে ভিনিউ পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছে।
কর্ণাটক সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে দুইটি মূল কারণ রয়েছে: প্রথমত, বড় ভিড়ের সম্ভাবনা এবং দ্বিতীয়ত, ম্যাচের সময়সূচি ও সরঞ্জাম সরবরাহে সৃষ্ট জটিলতা। এই বিবেচনায় চিন্নাসওয়ামি স্টেডিয়ামের পরিবর্তে বিসিসিআইয়ের সেন্টার অব এক্সিলেন্স (সিওই) নতুন ভিনিউ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
দিল্লি ও আন্ধ্রা দলগুলোকে প্রশিক্ষণ শুরু করার আগে নতুন ভিনিউ সম্পর্কে জানানো হয়েছে। উভয় দলই পরিবর্তনের পর তাদের প্রস্তুতি পরিকল্পনা সামঞ্জস্য করেছে। নতুন ভিনিউ সিওই, যা অরোস্পেস পার্কের মধ্যে অবস্থিত, সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য বেঙ্গালুরু পুলিশ বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে।
বেঙ্গালুরুর কোনো ম্যাচে দর্শক প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার নির্দেশ কেএসসিএকে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্টেডিয়ামের চারপাশে কঠোর প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। পূর্বে দুলিপ ট্রফি, উইমেন্স বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ এবং ভারত ‘এ’ দলের দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ সিওইতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল; সেসবই দর্শকবিহীনভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
কেএসসিএ পূর্বে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছিল যে কোহলি ও পান্তের ম্যাচ চিন্নাসওয়ামিতে আয়োজন করা সম্ভব। গ্যালারির দুটি স্ট্যান্ড খুলে ২,০০০ থেকে ৩,০০০ দর্শক বসানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে সরকার এই প্রস্তাবের কঠোর বিরোধিতা করেছে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, চিন্নাসওয়ামি স্টেডিয়ামের আশেপাশে উৎসবের সময় কোনো বিশৃঙ্খলা ঘটেনি, তবে বড় সমাবেশের ক্ষেত্রে ঝুঁকি এখনও বিদ্যমান। এই দৃষ্টিকোণ থেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সতর্কতা বজায় রাখা প্রয়োজন বলে সরকারী দিকনির্দেশনা জোরদার করা হয়েছে।
কেএসসিএ প্রেসিডেন্ট ভেঙ্কটেশ প্রসাদ চিন্নাসওয়ামি স্টেডিয়ামকে শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটের জন্য পুনরায় প্রস্তুত করতে বিভিন্ন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আইপিএলসহ আন্তর্জাতিক ম্যাচের সম্ভাবনা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
বেঙ্গালুরুর উচ্চ আদালতের বিচারপতি জন মাইকেল ডি’কুনহা পূর্বে উল্লেখ করেছেন যে, বড় সমাবেশের জন্য চিন্নাসওয়ামি স্টেডিয়াম নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে অনুপযুক্ত। তার মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্টেডিয়ামে শীর্ষ পর্যায়ের ম্যাচ আয়োজনের পথ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৪ জুন, আইপিএল চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর শিরোপা উদযাপন উপলক্ষে চিন্নাসওয়ামি স্টেডিয়ামের চারপাশে বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়। হঠাৎ ঘটিত পদদলিত ঘটনার ফলে ১১ জনের মৃত্যু এবং অন্তত ৪৭ জনের আঘাত হয়।
এই দুঃখজনক ঘটনার পর থেকে চিন্নাসওয়ামি স্টেডিয়ামে কোনো শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে কেএসসিএকে নতুন ভিনিউতে ম্যাচ স্থানান্তর করতে বাধ্য করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্যোগের ঝুঁকি কমে।
কর্ণাটক সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে ভিকি হাজারে ট্রফির শিডিউল সিওইতে পুনর্বিন্যাস করা হবে। কেএসসিএ এখন নতুন ভিনিউতে ম্যাচের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে এবং সকল সংশ্লিষ্ট দলকে নিরাপদ পরিবেশে খেলা নিশ্চিত করার জন্য সমন্বয় কাজ চলছে।
বেঙ্গালুরুর নিরাপত্তা সংস্থা এবং কেএসসিএ উভয়ই ম্যাচের সময়সূচি, প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক্সের সব দিক পুনরায় যাচাই করছে। দর্শকবিহীন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়া এই ম্যাচগুলোতে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ও টুর্নামেন্টের ফলাফলই মূল ফোকাস থাকবে।



