জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের জন্য ৩৫,৪৬৫ কোটি ১৪ লাখ টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এই উদ্যোগের মোট ব্যয় ৩৫,৪৬৫ কোটি টাকার মধ্যে সরকারী তহবিল থেকে ২১,২৭৭ কোটি এবং রিফাইনারি নিজস্ব তহবিল থেকে ১৪,১৮৭ কোটি সরবরাহ করা হবে। অনুমোদন সভা একনেকের চেয়ারপারসন ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
সিদ্ধান্তের মূল বিষয় হল নতুন বিশটি প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট স্থাপন করা, যা পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে। চট্টগ্রামে ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইস্টার্ন রিফাইনারি বর্তমানে বছরে প্রায় ১৫ লক্ষ টন জ্বালানি তেল শোধন করতে সক্ষম। অনুমোদিত প্রকল্পের বাস্তবায়ন শেষে শোধন ক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে ৩০ লক্ষ টনে পৌঁছাবে বলে সরকারী পরিকল্পনা জানানো হয়েছে।
একই দিনে একনেক মোট ৪৬,৪১৯ কোটি টাকার ২২টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এ প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারী তহবিল থেকে ৩০,৪৮২ কোটি ৪৯ লাখ, প্রকল্প ঋণ হিসেবে ১,৬৮৯ কোটি ৬১ লাখ এবং রিফাইনারি নিজস্ব তহবিল থেকে ১৪,২৪৭ কোটি ৫৬ লাখ যোগ হবে। নতুন ১৪টি এবং সংশোধিত পাঁচটি প্রকল্পে এই বরাদ্দ ব্যবহার করা হবে, আর তিনটি প্রকল্পের সময়সীমা চতুর্থবার বাড়ানোর অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, শোধন ক্ষমতার দ্বিগুণ বৃদ্ধি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমদানি নির্ভরতা কমলে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হ্রাস পাবে এবং স্থানীয় তেল শিল্পের লাভজনকতা বাড়বে। এছাড়া, নতুন প্রসেসিং ইউনিটের স্থাপন স্থানীয় সরবরাহ শৃঙ্খলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পে সরবরাহকারী ও সেবা প্রদানকারীদের চাহিদা বাড়াবে।
অন্যদিকে, বৃহৎ মূলধন ব্যয়ের সঙ্গে প্রকল্পের সময়সূচি ও খরচ নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি রয়েছে। একনেকের পূর্বে অনুমোদিত বহু প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানোর ইতিহাস থেকে দেখা যায়, বাস্তবায়ন পর্যায়ে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে। তদুপরি, শোধন ক্ষমতা বাড়লেও গ্লোবাল তেল দামের ওঠানামা ও দেশীয় জ্বালানি চাহিদার পরিবর্তন রিফাইনারির আয়কে প্রভাবিত করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প দেশের জ্বালানি স্বনির্ভরতা বাড়াতে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। শোধন ক্ষমতা দ্বিগুণ হলে আমদানি হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয় এবং স্থানীয় শিল্পের বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব প্রত্যাশিত। তবে প্রকল্পের সময়সীমা, খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক তেল বাজারের অস্থিরতা রিফাইনারির আর্থিক ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে, তাই যথাযথ তদারকি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।



