রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে, যখন রাকসু (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার ২২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ফেসবুকে এক পোস্টে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, যদি ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদ’ সমর্থনকারী কেউ ক্যাম্পাসে ঢুকে, তবে তাকে জোহা চত্বরে বাঁধা হবে।
এই পোস্টের পর ছাত্রগোষ্ঠী ও ছাত্রলীগের প্রতিনিধিরা একই ভাষায় রেকর্ডিং প্রকাশ করে, যেখানে তারা রাকসুর সতর্কতাকে সমর্থন জানায় এবং ক্যাম্পাসে কোনো বহিরাগতের প্রবেশের বিরোধিতা করে। একই সময়ে, বিএনপি সমর্থক শিক্ষকরা ভিসি (ভিজিটিং চিফ)কে অভিযোগ করেন যে, তারা ক্যাম্পাসে আসতে ভয় পাচ্ছেন, যা রাকসু জিএসের মন্তব্যে ‘বিএনপি শিক্ষকরা ভয় পাচ্ছেন’ বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়।
রাকসু জিএস আরও উল্লেখ করেন যে, ছাত্রগোষ্ঠীর এক নেতা পূর্বে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে হুমকি দিয়েছিলেন, যেখানে তিনি ৩০ মিনিটের মধ্যে তালা বন্ধ করার কথা বলেছিলেন। তার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলছেন, ক্যাম্পাসে ২০০৭ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে কেউই ক্যাম্পাসের বোঝা হয়ে থাকবে না এবং দীর্ঘ সময় ধরে ক্যাম্পাসে থাকা ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
অধিকন্তু, রাকসু জিএসের পোস্টে একটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ছাত্রগোষ্ঠীর একজন আহ্বায়ক ভিসির চেয়ারকে পদ্মা নদীতে ফেলে দিতে চেয়েছিলেন। তিনি এই ঘটনার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এটি ছাত্রগোষ্ঠীর চেতনার অভাবের উদাহরণ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন।
রাকসু সংস্থার গঠন ও দায়িত্বের বিষয়েও জিএস স্পষ্ট করেন যে, তিনি সংস্থার সংবিধান অনুযায়ী সব কাজ সম্পন্ন করছেন এবং তার কাজের পর্যালোচনা করতে কেউ চাইলে করতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংস্থার মধ্যে কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ সদস্যের উপস্থিতি নেই এবং তাদের জন্য রুয়া (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন) রয়েছে, রাকসুতে তাদের কোনো ভূমিকা নেই।
এই বিবৃতি প্রকাশের পর, ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছাত্রগোষ্ঠী ও ছাত্রলীগের নেতারা রাকসুর বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সকলেরই একসাথে কাজ করা প্রয়োজন। তারা আবারও ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদ’ সমর্থনকারী কোনো বাহ্যিকের প্রবেশের বিরোধিতা করে।
বিএনপি সমর্থক শিক্ষকরা ভিসি-কে জানিয়ে দেন যে, তারা ক্যাম্পাসে আসতে ভয় পাচ্ছেন, যা রাকসু জিএসের মন্তব্যে ‘বিএনপি শিক্ষকরা ভয় পাচ্ছেন’ বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়। এই পারস্পরিক অভিযোগ-প্রত্যাখ্যানের ফলে ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এই ঘটনার পূর্বে, তরিক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাবি ছাত্রগোষ্ঠীর স্বাগত মিছিলের পর একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ছাত্রগোষ্ঠীর সিনিয়র সহ-সভাপতি শাক… (বাকি অংশে সভার মূল বিষয়বস্তু উল্লেখ করা হয়নি)। এই অনুষ্ঠানটি ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কার্যকলাপের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত রাকসু জিএসের পোস্টের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো তদারকি করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়েরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাকসু জিএসের এই সতর্কবার্তা এবং ছাত্রগোষ্ঠীর সমর্থন রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যখন বিভিন্ন দল ক্যাম্পাসে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে। ভবিষ্যতে যদি কোনো বহিরাগত গোষ্ঠী ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করে, তবে রাকসু ও সংশ্লিষ্ট ছাত্রগোষ্ঠীর প্রতিক্রিয়া কী হবে তা দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
সারসংক্ষেপে, রাকসু জিএসের ফেসবুক পোস্ট এবং ছাত্রগোষ্ঠীর সমর্থন ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে, যেখানে শিক্ষক ও ছাত্র উভয়েরই নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার জন্য স্পষ্ট নীতি ও পদক্ষেপের প্রয়োজন।



