27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমিয়ানমার সামরিক জান্তা ভোটে জোর করে, বিরোধী গোষ্ঠীও হুমকি দিচ্ছে

মিয়ানমার সামরিক জান্তা ভোটে জোর করে, বিরোধী গোষ্ঠীও হুমকি দিচ্ছে

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভল্কার টুর্কের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, মিয়ানমারের সামরিক জান্তা আসন্ন নির্বাচনে নাগরিকদের ওপর ভয় দেখিয়ে ভোট দিতে বাধ্য করছে। একই সময়ে, সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীগুলোও ভোটে অংশ না নিতে হুমকি জানিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।

টুর্কের মন্তব্যে জোর দেওয়া হয়েছে যে, ভোটে অংশগ্রহণের জন্য মানুষকে জোর করা এবং মত প্রকাশের জন্য গ্রেফতার করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের লঙ্ঘন। তিনি জানিয়েছেন, এই ধরনের জোরপূর্বক ভোটদান এবং দমনমূলক কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার।

নির্বাচনটি আগামী রবিবার থেকে শুরু হওয়ার কথা, এবং সামরিক সরকার এটিকে গণতন্ত্রে ফিরে আসার পথ হিসেবে উপস্থাপন করছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংস্থা এই নির্বাচনের বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, কারণ এটি সামরিক শাসনের নতুন রূপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়, এরপর থেকে দেশটি গৃহযুদ্ধের মধ্যে আটকে আছে। সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান অং সান সু চি এখনও কারাবন্দি এবং তার দল ন্যাশনাল লিবারেশন ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (এনএলডিএ) ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ‘নির্বাচন সুরক্ষা আইন’ নামে একটি বিধি প্রয়োগের ফলে মত প্রকাশের জন্য বহু নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। কঠোর শাস্তি আরোপের উদাহরণ হিসেবে ইয়াঙ্গুন অঞ্চলে তিনজন যুবককে নির্বাচনবিরোধী পোস্টার টাঙানোর অভিযোগে ৪২ থেকে ৪৯ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বেসামরিক জনগণের ওপরও হুমকি বাড়ছে; ভোট না দিলে তাদের বাড়ি দখল করা, আক্রমণ করা বা নিরাপদ এলাকা থেকে বের করে নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। জাতিসংঘের মতে, মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে ফিরে যেতে বাধ্য করা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শীর্ষে রয়েছে।

বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও ভোটে অংশ না নিতে হুমকি জানিয়ে, কিছু এলাকায় নির্বাচন অফিসে বোমা হামলা চালায়। এই হামলায় নির্বাচনী কর্মীরা আহত হয়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতাকে আরও ক্ষুণ্ণ করে।

এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। যদি ভোটের ফলাফলকে বৈধতা না দেওয়া হয়, তবে জান্তার ক্ষমতা আরও দুর্বল হয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়বে। অন্যদিকে, বিরোধী গোষ্ঠীর সহিংসতা বাড়লে গৃহযুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে পারে, যা মানবিক সংকটকে তীব্র করবে।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সমাজের জন্য এখনই জরুরি যে, মিয়ানমার নির্বাচনের সময় সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা হয়, জোরপূর্বক ভোটদান বন্ধ করা হয় এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে নিরাপদ ও স্বচ্ছ করা হয়। এ ধরনের পদক্ষেপই দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পুনর্গঠন ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের ভিত্তি হতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments