27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসুদানের প্রধানমন্ত্রী কামিল ইদ্রিস ইউএনএসসিতে শান্তি পরিকল্পনা উপস্থাপন

সুদানের প্রধানমন্ত্রী কামিল ইদ্রিস ইউএনএসসিতে শান্তি পরিকল্পনা উপস্থাপন

সুদানের প্রধানমন্ত্রী কামিল ইদ্রিস সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেশের চলমান যুদ্ধে সমাপ্তি আনার লক্ষ্যে একটি ব্যাপক শান্তি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি সদস্য দেশগুলোকে ঐতিহাসিক দায়িত্বের দিকে তাকিয়ে এই উদ্যোগকে সমর্থন করার আহ্বান জানান, যদিও কোরডোফান ও উত্তর কোরডোফান রাজ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে।

ইদ্রিসের প্রস্তাবে একটি সমন্বিত যুদ্ধবিরতি অন্তর্ভুক্ত, যার তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব থাকবে জাতিসংঘ, আফ্রিকান ইউনিয়ন এবং আরব লীগ। এছাড়া র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (RSF) কর্তৃক দখল করা অঞ্চল থেকে তাদের প্রত্যাহার এবং নিরাপদে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা হবে।

প্রস্তাবের একটি মূল ধাপ হল RSF সৈন্যদের নির্দিষ্ট ক্যাম্পে স্থানান্তর করে অস্ত্রবিহীন করা, যা স্থায়ী শান্তি চুক্তির সফলতা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য বলে ইদ্রিস উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই পদক্ষেপ ছাড়া কোনো স্থায়ী সমঝোতা সম্ভব নয়।

এছাড়া, তিনি একটি পরিবর্তনকাল শেষে মুক্ত নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেন, যাতে আন্তঃসুদানি সংলাপের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠন করা যায়। পরিকল্পনায় এমনও ধারা রয়েছে যে, যেসব RSF সদস্য যুদ্ধাপরাধে জড়িত নয়, তাদের সমাজে পুনঃসংযুক্ত করা হবে।

ইদ্রিসের মতে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য যুদ্ধের বিজয় নয়, বরং দশকের পর দশক ধরে চলমান সহিংসতার চক্রকে ভাঙা। তিনি উল্লেখ করেন, শান্তি অর্জনই দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষার একমাত্র উপায়।

প্রধানমন্ত্রী ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে এই পরিকল্পনা সমর্থনের আবেদন করেন, যা যদি গৃহীত হয় তবে সুদানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঠিক পদক্ষেপই সুদানকে অস্থিরতা থেকে বের করে আনতে পারে।

ইউএনএসসিতে তার বক্তব্যের সময়, সুদানি সেনাবাহিনী জানায় যে তারা উত্তর কোরডোফান রাজ্যের আল‑রাহাদের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি শহর পুনরুদ্ধার করেছে। এই জয় সত্ত্বেও, সামরিক সংঘর্ষের তীব্রতা কমেনি।

অক্টোবর মাসে RSF দল পশ্চিম দারফুরের এল‑ফাশার শহর দখল করে, যেখানে ১,৫০০ের বেশি মানুষ নিহত হয়। এই আক্রমণ দেশের মানবিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

যুদ্ধের ফলে এখন পর্যন্ত দশ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং প্রায় ১৪ মিলিয়ন মানুষ স্থানচ্যুত হয়েছে। এই সংঘাতের মূল কারণ হল এপ্রিল ২০২৩ সালে সুদানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদেল ফতাহ আল‑বুরহান ও RSF প্রধান মোহাম্মদ হামদান “হেমেদতি” দাগালোয়ের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই।

ইউএসের দূত জেফ্রি বার্টসও একটি ভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেন, যেখানে মানবিক সহায়তা ও বেসামরিক জনগণের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তার পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ত্বরিত হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, যদি নিরাপত্তা পরিষদ ইদ্রিসের পরিকল্পনাকে অনুমোদন করে, তবে তা একটি ব্যাপক যুদ্ধবিরতি, শস্ত্রবিরতি পর্যবেক্ষণ মেকানিজম এবং রাজনৈতিক রূপান্তরের ভিত্তি স্থাপন করতে পারে। এ ধরনের সমর্থন আন্তর্জাতিক আর্থিক ও মানবিক সাহায্যের প্রবাহকে ত্বরান্বিত করবে।

পরবর্তী ধাপ হিসেবে নিরাপত্তা পরিষদের ভোটের ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তত্ত্বাবধান ব্যবস্থা গঠন করা হবে। উভয় পক্ষের মধ্যে পুনরায় আলোচনার সূচনা এবং ক্যাম্পে RSF সৈন্যদের নিরাপদ স্থানান্তর নিশ্চিত করা হবে, যা দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচিত।

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments