ফ্রান্সের দূতাবাসের রায়দূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে এবং জার্মানির চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আনজা কারস্টেন গত বিকেলে ঢাকা ফার্মগেটের দৈনিক স্টার কেন্দ্রীয় অফিসে গিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতের হামলা, অগ্নিকাণ্ড এবং লুটপাটের নিন্দা প্রকাশ করেন। তারা ২৮ জন সাংবাদিক ও কর্মচারীর ওপর আক্রমণ, অগ্নিকাণ্ড এবং প্রাণঘাতী হুমকির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসস্বাধীনতার পূর্ণ সমর্থন জানান।
হামলা ঘটেছে ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, বৃহস্পতিবার রাতের দিকে, যখন একটি ভিড় দৈনিক স্টার অফিসের নয়তলা ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগিয়ে অগ্নিকুণ্ডে পরিণত করে। অগ্নিকুণ্ডের ধোঁয়া দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে দুই ডজনেরও বেশি সাংবাদিক ও কর্মচারী ছাদে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
প্রায় চার ঘণ্টা পর, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য এবং দমকলদল অবশেষে ছাদে আটকে থাকা কর্মীদের নিরাপদে নামিয়ে আনে। ঘটনায় আহত বা নিহতের সংখ্যা প্রকাশ না হলেও, ২৮ জনের ওপর আক্রমণের প্রচেষ্টা করা হয়েছে বলে জানা যায়।
দূতাবাসের প্রতিনিধিরা অফিসে প্রবেশের সময় দৈনিক স্টারের যৌথ সম্পাদক আশা মেহরিন আমিন, পরামর্শদাতা সম্পাদক কামাল আহমেদ এবং উপসম্পাদক অরুণ দেবনাথের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা ঘটনার বিশদ বিবরণ শোনেন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম ও উদ্ধারকৃত কর্মীদের স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন।
পরিদর্শনের সময় রায়দূত ও চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স প্রথম তলায় গিয়ে ক্ষতির পরিমাণ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। তারা ভবনের কাঠামোগত ক্ষতি, অগ্নিকাণ্ডের অবশিষ্ট চিহ্ন এবং পুনর্নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন।
দূতাবাসের প্রতিনিধিরা স্পষ্টভাবে জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের হিংসা সত্ত্বেও স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত থাকা উচিত এবং দায়িত্বশীল তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের বিচার করা হবে। তারা বাংলাদেশের সরকারকে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং মিডিয়া কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানান।
ঘটনার পর, ফরাসি ও জার্মান কূটনীতিকরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এই ধরনের আক্রমণকে নিন্দা করার পাশাপাশি প্রেসস্বাধীনতার রক্ষার জন্য যৌথ পদক্ষেপের প্রস্তাব দেন। তারা উল্লেখ করেন যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোনো দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভিত্তি এবং তা লঙ্ঘন করা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের বিরোধী।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশের প্রেক্ষাপটে, সিএসসি নাসের উদ্দিন মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমি এখন অনেক আশ্বস্ত হয়ে ফিরছি। আপনারা মাঠে যান। আমি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই।”
দৈনিক স্টার অফিসের আক্রমণ এবং তার পরবর্তী কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেশের নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংক্রান্ত প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। সরকারকে দ্রুত তদন্ত চালিয়ে অপরাধীদের আইনি দায়িত্বে আনতে হবে, এটাই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রত্যাশা।
এই ঘটনার পর, বাংলাদেশে প্রেস সংস্থাগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ হুমকি থেকে রক্ষা পেতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
ফ্রান্স ও জার্মানির কূটনৈতিক মিশন এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মিডিয়া নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংরক্ষণের বৃহত্তর আলোচনার অংশ হিসেবে দেখছে। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের হিংসা রোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব রেখেছে।
সর্বশেষে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কূটনীতিকরা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে স্বাধীন সাংবাদিকতা কোনো বাধা ছাড়া কাজ করা উচিত এবং এই ধরনের আক্রমণকে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসারে মোকাবেলা করা হবে।



