ঢাকা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১ (আইসিটি‑১) আজ ১৭ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক চার্জ ফ্রেম করেছে, যার মধ্যে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার প্রাক্তন প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) তরিক আহমেদ সিদ্দিক অন্তর্ভুক্ত। অভিযোগগুলো মূলত আওয়ামী লীগ শাসনকালে জোরপূর্বক নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত। ট্রাইব্যুনাল তিনজন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত এবং আজ চারটি পৃথক অভিযোগের পাঠের পর রায় প্রদান করে।
প্রতিবাদে অভিযুক্তদের মধ্যে ১১জন সেনা কর্মকর্তা ও ১০জন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (আরএবি) এর প্রাক্তন সদস্য রয়েছে, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সরাসরি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই তালিকায় মেজর জেনারেল (অবসর) তরিক আহমেদ সিদ্দিকের পাশাপাশি ১১জন সেনা অফিসার অন্তর্ভুক্ত, যাদের পদবী ও দায়িত্বের বিবরণ আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে দশজন প্রাক্তন আরএবি অফিসারকে বিশেষভাবে আদালতে হাজির করা হয়, যা মামলার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
দশজন আরএবি কর্মকর্তার নাম হল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তফায়েল মোস্তফা সরোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, কর্নেল এ.কে.এম. আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল মো. সরোয়ার বিন কাশেম, কর্নেল অনোয়ার লতিফ খান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোশিয়ুর রহমান জুয়েল এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সাইফুল ইসলাম সুমন। এই কর্মকর্তারা সবই সামরিক ব্যাকগ্রাউন্ডের এবং তাদের পদবী অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে নিরাপত্তা অপারেশনে যুক্ত ছিলেন। ট্রাইব্যুনাল তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে, যাতে মামলার প্রমাণ ও সাক্ষ্য সংগ্রহে কোনো বাধা না থাকে।
চার্জ ফ্রেম করার আগে, বিচারকগণ অভিযুক্তদের ডকে উপস্থিতি নিশ্চিত করে প্রত্যেককে দোষ স্বীকারের সুযোগ দেন। দশজন আরএবি কর্মকর্তাই উঠে দাঁড়িয়ে দোষ স্বীকার না করার সিদ্ধান্ত নেন এবং প্রত্যেকই ‘দোষ স্বীকার করছি না’ বলে জানায়। একজন কর্মকর্তা আদালতে উল্লেখ করেন যে তিনি ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।
ট্রাইব্য



