বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ে ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার দিকে যাতায়াত সহজ করার জন্য দশটি রুটে মোট বিশটি বিশেষ ট্রেন চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে, স্বল্প দূরত্বের তিনটি কমিউটার ট্রেনের ওই দিনের যাত্রা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
সোমবার, ২২ ডিসেম্বর রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার রেজাউল করিম সিদ্দিকীর প্রেরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই ব্যবস্থা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাজবাড়ি কমিউটার (রাজবাড়ি‑পোড়াদহ), ঢালারচর এক্সপ্রেস (পাবনা‑রাজশাহী) এবং রোহনপুর কমিউটার (রোহনপুর‑রাজশাহী) ট্রেনের ২৫ ডিসেম্বরের যাত্রা স্থগিত থাকবে। বিশেষ ট্রেন ও অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢাকায় যাতায়াতের জন্য বিশেষ ট্রেন ও অতিরিক্ত কোচের আবেদন করা হয়েছিল। রেলওয়ে সেই আবেদন বিবেচনা করে উপরে উল্লিখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
বিশেষ ট্রেন চালু হবে নিম্নলিখিত রুটে: কক্সবাজার‑ঢাকা‑কক্সবাজার, জামালপুর‑ময়মনসিংহ‑ঢাকা‑জামালপুর, টাঙ্গাইল‑ঢাকা‑টাঙ্গাইল, ভৈরববাজার‑নরসিংদী‑ঢাকা‑নরসিংদী‑ভৈরববাজার, জয়দেবপুর‑ঢাকা, ক্যান্টনমেন্ট‑জয়দেবপুর (গাজীপুর), পঞ্চগড়‑ঢাকা‑পঞ্চগড়, খুলনা‑ঢাকা‑খুলনা, চাটমোহর‑ঢাকা, ক্যান্টনমেন্ট‑চাটমোহর, রাজশাহী‑ঢাকা‑রাজশাহী এবং যশোর‑ঢাকা‑যশোর।
এই রুটগুলোতে মোট বিশটি বিশেষ ট্রেন চলবে এবং পাশাপাশি নিয়মিত চলমান ট্রেনগুলিতে প্রয়োজন অনুসারে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা হবে। রেলওয়ে অনুমান করে যে, এই ব্যবস্থা থেকে প্রায় ছয় লক্ষ টাকা রাজস্ব আয় হবে।
তবে তিনটি কমিউটার ট্রেনের এক দিনের বন্ধের ফলে সংশ্লিষ্ট রুটের সাধারণ যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধা হবে বলে রেলপথ মন্ত্রণালয় দুঃখ প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, যাত্রীদের অসুবিধা কমাতে অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের মাধ্যমে ক্ষমা করা হবে।
বিশেষ ট্রেন ও অতিরিক্ত কোচে যাত্রা করা দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য রেলওয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি‑২০২৫ কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে। এতে করে নির্বাচনী সময়ে ট্রেনের ব্যবহার স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত থাকবে।
বিএনপির দিক থেকে এই ব্যবস্থা তারেক রহমানের নিরাপদ ও সুষ্ঠু প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমর্থকদের সমাবেশে অংশগ্রহণ সহজ করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। দলটি রেলওয়ের সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে যে, এই পদক্ষেপ ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ বাড়াবে।
অন্যদিকে, রেলপথ মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, রেলওয়ে সব সময় ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ সেবা প্রদান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ ট্রেন চালু হওয়ায় রেলওয়ের আয় বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সেবার মানোন্নয়নে সহায়তা করবে।
রেলওয়ের এই সিদ্ধান্তের ফলে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের যাত্রীদের চলাচল সহজ হবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। বিশেষ করে, কক্সবাজার, খুলনা, রাজশাহী ও যশোরের মতো দূরবর্তী অঞ্চল থেকে রাজধানীতে যাতায়াতের সময় কমবে।
অবশেষে, রেলপথ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, যাত্রীর নিরাপত্তা ও সেবার গুণগত মান বজায় রাখতে অতিরিক্ত কোচের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষেবা নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ ট্রেনের সময়সূচি ও টিকিটের মূল্য সংক্রান্ত তথ্য রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।



