সোমবার দুপুরে ঢাকার কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার প্রকাশনাগুলোর প্রধান কার্যালয়ে হঠাৎ হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ现场ে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়ে সরকারের সম্পূর্ণ দায়িত্বের কথা উল্লেখ করেন।
হামলা শুরু হয় যখন অজানা গোষ্ঠী গুলিবিদ্ধ করে গৃহস্থালি জানালার ভাঙচুর করে এবং অগ্নি জ্বালিয়ে প্রকাশনাগুলোর কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কর্মীরা জানায়, কয়েকজন আক্রমণকারী দ্রুতই গুলি চালিয়ে নিরাপত্তা কর্মীদের তাড়া করে এবং অগ্নি শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নি নিভাতে দেরি হওয়ায় কিছু অংশে ধ্বংসের চিহ্ন দেখা যায়।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বলেন, “যা ঘটে গেল, এটার অনেক অজুহাত হয়তো দেওয়া যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এর পুরো দায়দায়িত্ব সরকারেরই।” তিনি আরও যোগ করেন, “যা হয়ে গেছে, তা তো আর শোধরানো যাবে না। কিন্তু আমরা চাচ্ছি যে যারা এগুলো ঘটিয়েছে, তাদের শনাক্ত করা এবং তাদের বিচারের অধীনে আনা, এই চেষ্টা চলছে। এবং এর ফলাফলটা আপনারা দেখবেন।”
মাহমুদের মতে, এই ধরনের আক্রমণ দেশের সংবাদমাধ্যমের জন্য এক অন্ধকার রাতের সমতুল্য এবং এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে আগে দেখা যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, “দেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি সংবাদপত্র প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর করা হয়েছে এবং এতে কিছু সংবাদকর্মীর মৃত্যুর আশঙ্কাও ছিল। এটা দেশের সংবাদপত্র মাধ্যমের জন্য একটা কালো রাত ছিল।”
সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি, মাহমুদ গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি ও স্বাধীন মতপ্রকাশের গুরুত্বেও জোর দেন। তিনি বলেন, “উচ্ছৃঙ্খলতা এবং নৈরাজ্য সৃষ্টি করা গণতন্ত্রের ভাষা নয়। দেশ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে যেতে চায়। সেখানে সবাইকে শৃঙ্খলায় ফিরে আসতে হবে। যার যে মতবাদই থাকুক না কেন, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য চর্চা এবং সংবাদপত্রের মুক্ত বাকস্বাধীনতা রক্ষা করাই গণতন্ত্রের আদর্শ। এই আদর্শ থেকে বিচ্যুত হলে যেই গণতন্ত্রের উত্তরণ চাচ্ছে দেশের মানুষ, সেটি সম্ভব হবে না।”
হামলার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা দপ্তর ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি আক্রমণকারীদের সনাক্তকরণে তৎপরতা দেখাচ্ছে। সূত্র অনুযায়ী, তদন্ত দল গৃহীত তথ্য, সিসিটিভি রেকর্ড এবং সাক্ষ্য সংগ্রহের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের তালিকা তৈরি করছে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সরকারী সূত্র এখনও বিস্তারিত প্রকাশ করেনি, তবে ভবিষ্যতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিয়ে সরকারী নীতি পুনর্বিবেচনা করা হবে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের গোষ্ঠী আলোচনা শুরু করেছে। বিশেষ করে, মিডিয়া সংস্থাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত আইন প্রণয়নের দাবি উত্থাপিত হয়েছে।
অন্যদিকে, সরকারী পক্ষ থেকে এই ধরনের আক্রমণকে দমন করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করা হয়েছে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, “এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্গঠন এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
সামগ্রিকভাবে, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে ঘটিত হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ফলে দেশের সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারী দায়িত্বের ওপর জোর দিয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ভবিষ্যতে আক্রমণকারীদের সনাক্তকরণ ও বিচারের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই ঘটনাটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে এবং নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।



