20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাইন্দোনেশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তির চূড়ান্ত বিবরণ প্রকাশ, স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে

ইন্দোনেশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তির চূড়ান্ত বিবরণ প্রকাশ, স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে

ইন্দোনেশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক শুল্ক চুক্তির চূড়ান্ত শর্তাবলী এখনো সম্পূর্ণ রূপে নির্ধারিত হয়েছে। দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী মাসে শীর্ষ নেতাদের স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এই তথ্যটি ২২ ডিসেম্বর এএফপি সংস্থার প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।

গত জুলাই মাসে, যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি পণ্যের শুল্ক হারের ৩২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনেছিল। সেই সময় থেকে চুক্তির বিশদ আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী এয়ারলাঙ্গা হার্টার্তো ও মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (USTR) জেমিসন গ্রিয়ার ওয়াশিংটনে বৈঠক করার পর উভয় পক্ষই শর্তাবলীর মূল বিষয়গুলোতে একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

ওয়াশিংটন থেকে একটি ব্রিফিংয়ে এয়ারলাঙ্গা উল্লেখ করেন, পারস্পরিক শুল্ক চুক্তির নথিতে উল্লিখিত সব গুরুত্বপূর্ণ ও প্রযুক্তিগত দিক নিয়ে দুই দেশই সমন্বয় সাধন করেছে। আলোচনার কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল উভয় বাজারে প্রবেশের সমতা নিশ্চিত করা, যাতে ইন্দোনেশিয়ার পাম তেল, কফি ও চা ইত্যাদি মূল রপ্তানি পণ্যের উপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হ্রাস পায়। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার খনিজ সম্পদে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছে।

চুক্তির আওতায়, ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি, কৃষি এবং বিমান শিল্পের পণ্য আমদানি বাড়াতে কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও গভীর করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষই উল্লেখ করেছে যে, আগামী মাসে আইনি বাধা দূর করার জন্য পুনরায় আলোচনার সূচনা হবে, যা চুক্তির কার্যকরী বাস্তবায়নের জন্য অপরিহার্য।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি ১৭.৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৫.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ঘাটতি ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হ্রাসের ফলে ঘটেছে, যা উভয় দেশের বাণিজ্যিক ভারসাম্যকে পুনর্গঠন করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা এই চুক্তিকে ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। শুল্ক হ্রাসের ফলে পাম তেল, কফি ও চা শিল্পের রপ্তানি খরচ কমে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়াবে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি ও এয়ারক্রাফ্ট শিল্পে ইন্দোনেশিয়ার অংশগ্রহণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্থানীয় উৎপাদন ক্ষমতা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

তবে, চুক্তির বাস্তবায়ন পর্যায়ে কিছু ঝুঁকি রয়ে গেছে। শুল্ক হ্রাসের ফলে স্থানীয় উৎপাদকদের উপর প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোগগুলোতে মূল্যচাপের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। এছাড়া, আইনি ও নিয়ন্ত্রক বাধা দূর না হলে চুক্তির পূর্ণ কার্যকারিতা অর্জন কঠিন হতে পারে। তাই, উভয় সরকারই আইনি কাঠামোকে সহজতর করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

সংক্ষেপে, ইন্দোনেশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রাখে। শুল্ক হ্রাস এবং বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি উভয় দেশের শিল্পে প্রবেশের বাধা কমিয়ে, রপ্তানি বৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। তবে, আইনি প্রক্রিয়ার দ্রুত সমাপ্তি এবং স্থানীয় শিল্পের প্রতিযোগিতামূলকতা রক্ষার জন্য নীতিগত সমন্বয় অপরিহার্য। আগামী মাসে স্বাক্ষর অনুষ্ঠান এবং পরবর্তী আলোচনার ফলাফলই চুক্তির বাস্তব প্রভাব নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments