প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার প্রকাশনা কেন্দ্রগুলোতে গত বৃহস্পতিবার রাতে সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিকাণ্ড এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীরকে হেনস্তা করা হয়। এই আক্রমণগুলোকে গণমাধ্যমের ওপর এক কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (নোয়াব) সভাপতি এ কে আজাদ এ ঘটনার পর সারা দেশের সাংবাদিকদের জন্য মধ্য-জানুয়ারি সময়ে একটি মহাসম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন। সমাবেশের মূল লক্ষ্য হবে ঘটনার পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ এবং মিডিয়া কর্মীদের নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
আজাদ উল্লেখ করেন, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট এবং উদীচীসহ বেশ কয়েকটি প্রকাশনার অফিসে আগুন লাগিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। এইসব প্রতিষ্ঠানের দায়ী ব্যক্তিরা বিচার না হওয়া পর্যন্ত এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।
ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের পূর্বে প্রথম আলোর ওপর আক্রমণের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পর, তিনি সরকারী সংস্থা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা প্রদানকারীকে সহায়তা চেয়েছিলেন। তবে সহায়তা সময়মতো না পেয়ে, হামলার পরই তিনি সুরক্ষা পেয়েছিলেন, যা তিনি অপ্রতুল বলে উল্লেখ করেছেন।
প্রতিবাদী দলগুলো এই আক্রমণকে পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কাজ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে। নোয়াবের নেতৃত্বে সংগৃহীত সাংবাদিকরা এখনো পর্যন্ত কোনো অপরাধীকে আদালতে হাজির হতে দেখেনি, যা তাদের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
মহাসম্মেলনের সময় নোয়াবের সদস্য সংস্থা ও মিডিয়া সংস্থাগুলো একত্রে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনগত পদক্ষেপ এবং সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার জন্য প্রস্তাবনা উপস্থাপন করবে। সমাবেশের পরবর্তী কর্মসূচি এবং দাবিগুলো সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে তুলে ধরা হবে।
এই ঘটনার পর মিডিয়া সংস্থাগুলো দেশব্যাপী নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে, সরকারকে দ্রুত তদন্ত চালিয়ে অপরাধীদের আইনি দায়িত্বে আনতে এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
মিডিয়া কর্মীদের মতে, এই ধরনের হিংসাত্মক আক্রমণ যদি দমন না করা হয়, তবে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও তথ্যের স্বচ্ছতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই নোয়াবের মহাসম্মেলনকে মিডিয়া স্বাধীনতার রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সমাবেশের নির্দিষ্ট তারিখ ও স্থান এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে এ সপ্তাহের শেষের দিকে নোয়াবের অফিস থেকে বিস্তারিত জানানো হবে। সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রত্যাশা, এই সমাবেশের মাধ্যমে মিডিয়া নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা সংক্রান্ত স্পষ্ট নীতি গঠন করা।



