ঢাকা – আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১ (আইসিটি‑১) আজ ১৭ জনকে, যার মধ্যে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শীখ হাসিনা অন্তর্ভুক্ত, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও জোরপূর্বক অদৃশ্যতার অভিযোগে দোষারোপ করেছে। অভিযোগগুলো আওয়ামী লীগ শাসনকালে ঘটিত অনুপস্থিতি ও নির্যাতনের ওপর ভিত্তি করে।
ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যের প্যানেল চারটি পৃথক অভিযোগের পাঠের পর দায়েরের আদেশ জারি করে। অভিযুক্তদের মধ্যে শীখ হাসিনার পূর্বের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) তরিক আহমেদ সিদ্দিক এবং একাদশজন সামরিক কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত।
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দশজন প্রাক্তন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (আরএবি) কর্মকর্তা, যাঁরা সামরিক পটভূমি থেকে আসেন, ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থিত হয়েছেন। তাদের নাম হল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম. কুমরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তফায়েল মোস্তফা সরোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম. মাহবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম. জাহাঙ্গীর আলম, কর্নেল এ.কে.এম. আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল এম. সরোয়ার বিন কাশেম, কর্নেল অনোয়ার লতিফ খান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম. মোশিয়ুর রহমান জুয়েল এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম. সাইফুল ইসলাম সুমন।
দোষারোপের সময় ট্রাইব্যুনাল প্রত্যেক উপস্থিত অভিযুক্তকে তার দোষ স্বীকারের ইচ্ছা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। দশজনই দাঁড়িয়ে ‘দোষী নই’ বলে উত্তর দেন। তাদের মধ্যে একজন আদালতে প্রকাশ করেন যে তিনি ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।
ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী ধাপের জন্য ২১ জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেছে, যার মধ্যে উভয় পক্ষের উদ্বোধনী বক্তব্য শোনা হবে। এই তারিখে মামলার মূল দিকগুলো উন্মোচিত হবে এবং প্রমাণের বিশদ বিবরণ উপস্থাপিত হবে।
প্রসিকিউশন উল্লেখ করেছে যে ২০১৬ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত মোট চৌদ্দজনের ওপর অবৈধভাবে আটক ও নির্যাতন করা হয়েছে, যা টিএফআই সেল নামে পরিচিত এক গোপন কক্ষের মধ্যে ঘটেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর দায়িত্ব আরোপ করা হয়েছে।
আইসিটি‑১-এ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও জোরপূর্বক অদৃশ্যতা আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়, যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা আজীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। আদালত এখন পর্যন্ত কোনো রায় প্রদান করেনি; তবে দোষারোপের পরবর্তী পর্যায়ে প্রমাণের বিশ্লেষণ ও সাক্ষীবৃন্দের সাক্ষ্য শোনা হবে।
আইনি বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, এই মামলাটি দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে সামরিক কর্মকর্তাদের যুক্তি থাকায় বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক নজরদারির বিষয়।
ট্রাইব্যুনালের এই দায়েরের পর, সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষকগণ মামলার অগ্রগতি নিবিড়ভাবে অনুসরণ করবেন। ভবিষ্যতে আদালতের রায় ও শাস্তি দেশের আইনি সংস্কার ও মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে উঠবে।



