মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির, সোমবার ঢাকা‑১৩ নির্বাচনী এলাকার তিনটি নগর‑উপনগরে ধারাবাহিক জনসংযোগ কার্যক্রমে অংশ নেন। তিনি মোহাম্মদপুরের জাফরাবাদ, রায়ের বাজার এবং পশ্চিম ধানমন্ডি সহ আদাবর ও শেরে বাংলা এলাকায় ধর্মীয় ও সংগঠনগত মিটিং আয়োজন করে স্থানীয় বাসিন্দা ও সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেন। এই পদক্ষেপের পেছনে আসনের ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া মূল লক্ষ্য বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
সকালবেলা জাফরাবাদ এলাকায় পাবনা হাউস গলি জামে মসজিদে তিনি নামাজের শেষের দোয়া শেষে উপস্থিত মুসলিমদের সঙ্গে স্বল্প কথোপকথন করেন। এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতে তিনি এলাকার সামগ্রিক নিরাপত্তা, সেবা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেন এবং বাসিন্দাদের উদ্বেগ শোনার সুযোগ পান।
নামাজের পর তিনি স্থানীয় মুসলিমদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, যেখানে তিনি নিজস্ব স্বাস্থ্য ও পরিবারিক কল্যাণের কথা জানিয়ে আশীর্বাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি এলাকার সামাজিক অবস্থা, শিক্ষার অবস্থা এবং মৌলিক সেবার প্রাপ্যতা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন।
এরপর রায়ের বাজারের পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩৪নং ওয়ার্ড ইউনিটের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সভায় সংগঠনের চলমান কার্যক্রম, সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। মাওলানা হক সংগঠনের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা, নিষ্ঠা ও ত্যাগের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে সদস্যদের আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে উৎসাহিত করেন।
সন্ধ্যায় তিনি পশ্চিম ধানমন্ডির আল‑আকসা মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। নামাজের পর উপস্থিত মুসলিমদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপের সময় তিনি এলাকার বর্তমান সমস্যাগুলো, যেমন রাস্তার অবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং তরুণদের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বিষয়গুলো তুলে ধরেন। এই সংলাপের মাধ্যমে তিনি সরাসরি জনগণের মতামত জানার পাশাপাশি তাদের প্রত্যাশা বুঝতে চেয়েছেন।
মাগরিবের পর তিনি চাঁদ উদ্যানের হোসেন মার্কেটের সামনে অনুষ্ঠিত এক দোয়া মাহফিলে অংশ নেন, যা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩৩ নং ওয়ার্ডের উদ্যোগে শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর মাগফেরাত কামনা করে আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে তাদের আদর্শকে বাস্তবায়নের জন্য ঐক্যবদ্ধ কাজের আহ্বান জানানো হয়। উপস্থিত সদস্য ও সাধারণ মানুষ উভয়ই দোয়া ও স্মরণে মগ্ন ছিলেন।
আলোচনার সময় শহীদদের ত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় এবং তাদের আদর্শ অনুসরণে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলা হয়। মাওলানা হক উপস্থিতদেরকে সংগঠনের কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে ভোটারদের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছানোর আহ্বান জানান।
এই ধারাবাহিক জনসংযোগ কার্যক্রমের মাধ্যমে মাওলানা মামুনুল হক তার সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে রাজনৈতিক ভিত্তি দৃঢ় করার চেষ্টা করছেন। বিশেষত ঢাকা‑১৩ আসনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নগর এলাকায় তিনি ধর্মীয় অনুষ্ঠান, স্থানীয় সভা এবং স্মরণসভা একত্রে পরিচালনা করে বিভিন্ন স্তরের জনগণকে একত্রিত করার লক্ষ্য রাখছেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এমন সরাসরি সংযোগের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারকে আরও ভিত্তিক করা সম্ভব, যা ভোটারদের বাস্তব সমস্যার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে ভোটের প্রবণতা পরিবর্তনে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে তরুণ ভোটার এবং ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো ভবিষ্যৎ নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
মাওলানা হকের এই কার্যক্রমে দেখা যায়, তিনি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকে রাজনৈতিক যোগাযোগের সঙ্গে মিশ্রিত করে একটি সমন্বিত পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। এ ধরনের পদ্ধতি স্থানীয় স্তরে সংগঠনের দৃঢ়তা বাড়াতে এবং আসনের ভিত্তি শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে। আগামী সময়ে তিনি কীভাবে এই ভিত্তিকে ভোটারদের সমর্থনে রূপান্তর করবেন, তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে থাকবে।



