মেক্সিকোর নৌবাহিনীর একটি বিমান ২৪ অক্টোবর, টেক্সাসের গ্যালভেস্টন উপকূলে কুয়াশার মধ্যে ধসে পাঁচজনের মৃত্যু ঘটায় এবং একজনকে এখনও অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এই বিমানটি একটি শিশুকে নিয়ে যাত্রা করছিল, যিনি তীব্র পুড়ার শিকার ছিলেন, এবং মিশু ও মাউ ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছিল।
ফ্লাইট রাডার তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি স্থানীয় সময় ১৫:০১ (GMT ২১:০১) গ্যালভেস্টন বে, শোলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের নিকটবর্তী এলাকায় শেষবার রেকর্ড হয়। রেকর্ডে দেখা যায় যে বিমানটি সমুদ্রের উপরে নিম্ন উচ্চতায় উড়ছিল, যেখানে দৃষ্টিসীমা সীমিত ছিল।
মিশু ও মাউ ফাউন্ডেশন মেক্সিকোর শিশুদের তীব্র পুড়ার চিকিৎসা প্রদান করে এবং এই মিশনটি বিশেষভাবে কঠিন রোগীর দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার জন্য চালু করা হয়েছিল। ফাউন্ডেশনটি যুক্তরাষ্ট্রের পার্শ্ববর্তী হাসপাতালগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে রোগীর স্থানান্তর পরিকল্পনা করেছিল।
মেক্সিকোর নৌবাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, দুইজনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং একজন এখনও নিখোঁজ। বেঁচে থাকা দুজনকে জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে এবং তারা নিরাপদে যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা অতিক্রম করেছে।
স্থানীয় ইয়ট ক্যাপ্টেন স্কাই ডেকার ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুইজন পুলিশ কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে পানিতে ডুবে থাকা বিমানটি অনুসন্ধান করেন। তিনি নিজে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে একটি গুরুতরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত নারীকে পানির নিচে আটকে থাকা অবস্থায় উদ্ধার করেন।
উদ্ধারকৃত নারীর শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য মাত্র তিন ইঞ্চি বাতাসের ফাঁকা ছিল, যা তাকে তৎক্ষণাৎ বেঁচে রাখার জন্য জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছিল। তার শারীরিক অবস্থার গুরুতরতা এবং পুড়ার পরিণতি বিবেচনা করে, চিকিৎসা দল দ্রুত তাকে স্থলভাগে নিয়ে যায়।
বিমানটি পানিতে ডুবে যাওয়ার ফলে জেট ফুয়েল এবং সমুদ্রের জল মিশ্রিত হয়ে তীব্র গন্ধ এবং বিষাক্ত ধোঁয়া তৈরি করে, যা উদ্ধারকর্মীদের শ্বাসযন্ত্রের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। এই পরিবেশে কাজ করা দলকে বিশেষ সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হয়েছিল।
মেক্সিকোর নৌবাহিনীর অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। উভয় দেশের সমুদ্র রক্ষী দল একত্রে পৃষ্ঠে এবং পানির নিচে অনুসন্ধান চালিয়ে গিয়েছিল, যাতে নিখোঁজ ব্যক্তিকে দ্রুত খুঁজে বের করা যায়।
দুর্ঘটনা পরবর্তী মুহূর্তে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সংযোগে এক ধরণের সমন্বয় দেখা যায়। উভয় দেশের সরকার দ্রুত তথ্য শেয়ার করে এবং উদ্ধারকর্মে পারস্পরিক সহায়তা বাড়ায়। এই ধরনের সমন্বয় পূর্বে ঘটে যাওয়া সমুদ্র দুর্ঘটনা ও মানবিক মিশনে দেখা গিয়েছে।
মেক্সিকোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি জারি করে বলেছে, “এই দুঃখজনক ঘটনার পর আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখছি এবং সকল প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছি।” মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করে যে, ভবিষ্যতে এমন মানবিক মিশনের নিরাপত্তা বাড়াতে দ্বিপাক্ষিক প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্রও একইভাবে মন্তব্য করে, “মেক্সিকোর সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা এই ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমরা দ্রুত রেসকিউ টিম এবং মেডিকেল সাপোর্ট পাঠিয়েছি এবং ভবিষ্যতে সমুদ্র নিরাপত্তা বাড়াতে যৌথ উদ্যোগে কাজ করব।” এই বক্তব্যে উভয় দেশের নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
মিশু ও মাউ ফাউন্ডেশন সামাজিক মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করে, “এই দুঃখজনক ঘটনার শিকার পরিবারগুলোর প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা রইল। আমরা দ্রুত পুনর্বাসন ও মানসিক সহায়তা প্রদান করার জন্য প্রস্তুত আছি।” ফাউন্ডেশনটি ভবিষ্যতে রোগীর নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে।
এই দুর্ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবিক মিশনের ঝুঁকি ও জটিলতা পুনরায় উন্মোচিত করেছে। বিশেষ করে সীমান্ত পারাপার চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী বিমান ও হেলিকপ্টারের নিরাপত্তা মানদণ্ডকে পুনর্বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। উভয় দেশই এখন এই ধরনের মিশনের জন্য নতুন নিরাপত্তা প্রোটোকল তৈরি এবং প্রশিক্ষণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
অবশেষে, উদ্ধারকর্মে নিযুক্ত সকল কর্মী, বিশেষ করে স্থানীয় যাত্রীরা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডের সদস্যদের প্রশংসা করা হচ্ছে, যারা কঠিন পরিবেশে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে প্রাণ রক্ষায় অবদান রেখেছেন। এই ঘটনা ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সমন্বয় ও মানবিক সহায়তার গুরুত্বকে আরও দৃঢ় করবে।



