18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনিউ সাউথ ওয়েলস দ্রুত গুলি ও প্রতিবাদ আইন চালু করে, বন্ডি শুটিংয়ের...

নিউ সাউথ ওয়েলস দ্রুত গুলি ও প্রতিবাদ আইন চালু করে, বন্ডি শুটিংয়ের পর সমালোচনা বাড়ে

নিউ সাউথ ওয়েলস (NSW) রাজ্য সরকার সোমবার পার্লামেন্টকে পুনরায় ডেকেছে, যাতে বন্ডি শুটিংয়ের পর প্রস্তাবিত একাধিক আইন দ্রুত অনুমোদন করা যায়। এই আইনগুলোর মধ্যে রয়েছে “গ্লোবালাইজ দ্য ইন্টিফাদা” বাক্যটি নিষিদ্ধ করা, ব্যক্তির গুলি ধারনের সংখ্যা সীমিত করা এবং প্রতিবাদে পুলিশের ক্ষমতা বাড়ানো।

বন্ডি শুটিংয়ে ১৫ জনের মৃত্যু ঘটার পর, সরকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে এই পদক্ষেপগুলোকে জরুরি বলে দাবি করেছে। NSWের প্রধানমন্ত্রীর ক্রিস মিন্স উল্লেখ করেন, যদিও কিছু মানুষ পরিবর্তনগুলোকে অতিরিক্ত বলে মনে করতে পারে, তবে জনসাধারণের সুরক্ষার জন্য এগুলো প্রয়োজনীয়।

প্রস্তাবিত গুলি সীমা আইনটি এক ব্যক্তি কতটি অস্ত্র রাখতে পারে তা নির্ধারণ করবে, যা গুলি মালিকদের অধিকারকে সীমাবদ্ধ করার উদ্দেশ্য বহন করে। গুলি সমর্থক ও প্রো-গান রাজনৈতিক নেতারা এই বিধানকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী নাগরিকদের প্রতি অন্যায় বলে সমালোচনা করেছেন। তারা যুক্তি দেন, সঠিক লাইসেন্সধারী গুলি মালিকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ আরোপ করা হবে।

প্রতিবাদ সংক্রান্ত নতুন বিধানগুলোতে পুলিশের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, বিশেষ করে ধর্মীয় স্থানে প্রতিবাদ সীমাবদ্ধ করার অনুমতি থাকবে এবং লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি কঠোর হবে। ধর্মীয় স্থানগুলোতে “মুভ-অন” ক্ষমতা ব্যবহার করা সংবিধানিক স্বাধীনতার লঙ্ঘন হতে পারে বলে NSW সিভিল লিবার্টিজ কাউন্সিলের সভাপতি টিমোথি রবার্টসের উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সর্বোচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক রায়ে ধর্মীয় স্থানে পুলিশের হস্তক্ষেপকে অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে, যা নতুন আইনটি উপেক্ষা করছে।

বন্ডি শুটিংয়ের পর, জিউইশ সম্প্রদায় সরকারকে বাড়তি অ্যান্টি-সেমিটিজমের বিরুদ্ধে যথেষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য সমালোচনা করে। তারা দাবি করে, এই ধরনের হিংসা রোধে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন।

প্রস্তাবিত “গ্লোবালাইজ দ্য ইন্টিফাদা” বাক্যটি নিষিদ্ধ করার পেছনে সরকার যুক্তি দেয় যে, এই শব্দগুচ্ছের ব্যবহার প্রতিবাদে বৈশ্বিক উগ্রতা ও সহিংসতার আহ্বান হিসেবে দেখা হয়। মিন্স বলেন, এই বাক্যটি মধ্যপ্রাচ্য বা ইসরায়েল-গাজা সংক্রান্ত নয়, বরং সিডনির স্থানীয় প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হলে তা সামাজিক বিভাজন বাড়ায় এবং সহিংসতার দিকে ধাবিত করে।

বিরোধী দলগুলো এই নিষেধাজ্ঞাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। কিছু বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, ইন্টিফাদা শব্দটি ১৯৮৭ সালে ফিলিস্তিনি বিদ্রোহের সময় উদ্ভূত হয়েছে এবং তা বিভিন্ন ব্যাখ্যা পেয়েছে—কেউ এটিকে ইসরায়েল-গাজা সংঘাতের প্রতি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ হিসেবে, আবার কেউ এটিকে ইহুদি বিরোধী হিংসার আহ্বান হিসেবে দেখে।

আইনগুলোর দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়ার ফলে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্রতর হয়েছে। আইনসভার পুনর্আহ্বান এবং দ্রুত ভোটের মাধ্যমে এই বিধানগুলোকে কার্যকর করা হবে, যা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণে আদালতের ভবিষ্যৎ রায়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সমালোচকরা সতর্ক করছেন, যদি এই আইনগুলো সংবিধানিক স্বাধীনতা সীমিত করে, তবে তা আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর মতে, নিরাপত্তা ও সামাজিক সংহতি রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপগুলো অপরিহার্য, তবে তিনি স্বীকার করেন যে কিছু নাগরিকের জন্য এই পরিবর্তনগুলো অস্বস্তিকর হতে পারে। গুলি মালিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো আইনসভার আলোচনায় তাদের উদ্বেগ তুলে ধরবে এবং সম্ভবত ভবিষ্যতে সংশোধনের দাবি জানাবে।

বন্ডি শুটিংয়ের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সরকারকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মৌলিক অধিকার রক্ষার ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। আইনসভার সিদ্ধান্তের পর, নাগরিক সমাজ ও বিচারিক সংস্থাগুলো কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর প্রভাব ফেলবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments