বিএনপি সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ গুলশানের পার্টি চেয়ারপার্সনের অফিসে অনুষ্ঠিত ব্রিফিং‑এ জানিয়েছেন যে, দলটি নিলফামারী‑১, নারায়ণগঞ্জ‑৪, সিলেট‑৫ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া‑২ আসনে কোনো প্রার্থী দেবে না। এই চারটি আসন জামিয়াত উলেমা-ই-ইসলাম বাংলাদেশ (JUI) এর প্রার্থীর জন্য অর্পণ করা হবে, যা দুই দলের মধ্যে একটি আসন‑বণ্টন চুক্তির অংশ।
ফখরুলের মতে, নিলফামারী‑১ আসনে মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্ডি, নারায়ণগঞ্জ‑৪-এ মনির হোসেন, সিলেট‑৫-এ উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া‑২-এ জুনায়েদ আল হাবিব JUI‑এর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এসব প্রার্থীর নাম পার্টি নেতৃত্বের সঙ্গে পূর্বে সমন্বয় করা হয়েছে এবং ভোটারদের কাছে জানানো হবে।
বিএনপি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, যদি কোনো বিএনপি নেতা স্বাধীনভাবে বা অন্য কোনো রূপে এই চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে সংগঠনিক শাস্তি আরোপ করা হবে। ফখরুল এই সিদ্ধান্তকে JUI‑এর সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও কৌশলগত সমন্বয়ের ফলাফল বলে উল্লেখ করেছেন।
JUI‑এর সেক্রেটারি জেনারেল উবায়দুল্লাহ ফারুকও একই অনুষ্ঠানে জানান যে, তাদের দল এই চারটি আসনের বাইরে কোনো প্রার্থী দেবে না। তিনি জোর দিয়ে বলছেন যে, JUI‑এর লক্ষ্য শুধুমাত্র এই নির্ধারিত আসনে জয়লাভ করা এবং অন্য সব নির্বাচনী ক্ষেত্র থেকে নিজেকে দূরে রাখা।
ফারুকের মন্তব্যে তিনি জোর দিয়েছেন, “অন্যান্য দলগুলোর তুলনায় আমরা বিএনপি‑কে বেশি বিশ্বাসযোগ্য মনে করি।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে JUI‑এর নেতৃত্বের কাছে বিএনপি‑কে রাজনৈতিক জোটের মূল স্তম্ভ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই আসন‑বণ্টন চুক্তি পূর্বে দুই দলের মধ্যে আলোচনার পর গৃহীত হয়, যেখানে উভয় পক্ষই নিজেদের শক্তি ও ভোটার ভিত্তি বিবেচনা করে কৌশল নির্ধারণ করেছে। জোটের এই ধাপটি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
বিএনপি ইতিমধ্যে দেশের অন্যান্য আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে এবং কিছু আসনে স্বাধীন প্রার্থীর সমর্থনও জানিয়েছে। তবে নিলফামারী‑১, নারায়ণগঞ্জ‑৪, সিলেট‑৫ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া‑২ ছাড়া অন্য সব এলাকায় দলটি নিজস্ব প্রার্থী দেবে।
JUI‑এর এই সিদ্ধান্তের ফলে তাদের ভোটার ভিত্তি, বিশেষ করে ধর্মীয় ও গ্রামীণ ভোটার, এই চারটি আসনে একত্রিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। একই সঙ্গে, বিরোধী দলগুলোর জন্য এই আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কঠিন হয়ে পড়বে, কারণ জোটের সমন্বয় ভোটারদের কাছে একতাবদ্ধ বার্তা পৌঁছে দেবে।
দুই দলের এই সমঝোতা নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কোনো অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন বা চুক্তি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে পার্টির অভ্যন্তরে কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে।
বিএনপি ও JUI উভয়ই ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য এই ধরণের জোটকে শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। আসন্ন সময়ে উভয় পার্টি তাদের প্রচারাভিযান চালিয়ে যাবে এবং ভোটারদের কাছে তাদের নীতি ও পরিকল্পনা তুলে ধরবে।
এই চুক্তি শেষ পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে কী প্রভাব ফেলবে, তা নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে। তবে এখন পর্যন্ত, দুই দলই তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টা দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও গঠনমূলক করে তুলতে চায়।



