গুড়গাঁয়ের গুলশানের বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে মঙ্গলবার বিকেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশকে “ট্রানজিশনাল প্রসেস”ে প্রবেশের সূচনায় উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এই পরিবর্তনকালীন সময়ে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী প্রক্রিয়াটিকে ব্যাহত করার জন্য গোপন চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে।
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের আগে জামিয়াতে উলমায়ে ইসলাম বাংলাদেশ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে, বিএনপি থেকে চারটি আসন উলমায়ে ইসলামকে দান করার ইচ্ছা প্রকাশ করে। তিনি গুলশানের কার্যালয়ে উক্ত চারটি আসনের প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেন: সিলেট‑৫ আসনে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, নীলফামারী‑১ আসনে মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি, বি‑বাড়িয়া‑২ আসনে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব এবং নারায়ণগঞ্জ‑৪ আসনে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমি।
বিএনপি মহাসচিব উল্লেখ করেন, যদিও দেশের শাসনব্যবস্থা পূর্বের “ফ্যাসিস্ট” শাসন থেকে বেরিয়ে এসেছে, তবু কিছু গোষ্ঠী এখনও পরিবর্তনকে বাধা দিতে চায়। তিনি শোক প্রকাশ করে শহীদ ওসমান হাদির আত্মার মাগফিরাতের প্রার্থনা করেন এবং বললেন, এই চক্রান্তের মুখোমুখি হয়ে তিনি আত্মত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
মির্জা ফখরুল অতীতের শাসনকে “ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট শাসন” বলে বর্ণনা করেন, যা দেশের নৈতিক মূল্যবোধ, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং অর্থনীতিকে ক্ষয় করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখন দেশের নাগরিকরা নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকার ও সংসদ দেশের সঠিক পথে পরিচালনা করবে, এটাই সকলের প্রত্যাশা।
বর্তমান সরকারের কর্মদক্ষতার প্রতি তিনি সমালোচনা করে বলেন, সরকারের ব্যর্থতার ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বে প্রত্যাশা করা হয়েছিল যে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের সরকার অন্তত কয়েক মাসের মধ্যে দক্ষতা ও কার্যকারিতা প্রদর্শন করবে।
নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে মির্জা ফখরুল সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সরকার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখে নির্বাচন ঘোষণা করেছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের জন্য যে পরিবেশ গড়ে তোলা দরকার, তা এখনও সম্পূর্ণ রূপে নিশ্চিত হয়নি।
বিএনপি মহাসচিবের এই মন্তব্যগুলো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করেছে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ট্রানজিশনাল প্রসেসে বাধা সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি, যাতে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।
এই বিবৃতি দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি নির্বাচনের পূর্বে বিরোধী দলগুলোর কৌশল ও পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়। ভবিষ্যতে নির্বাচনের পরিবেশ কীভাবে গড়ে উঠবে, তা এখনো অনিশ্চিত, তবে সকল রাজনৈতিক শক্তির সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন দেশের সুষ্ঠু পরিবর্তন নিশ্চিত করতে।



