চিফ ইলেকশন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন আজ নির্বাচনী ভবনে মাঠের কর্মকর্তাদের সমাবেশে আইন শাসনের বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ১৩তম সংসদীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি চলমান এবং এই প্রক্রিয়ায় শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
সকাল দশটায় নিখিল কমিশনার, জেলা কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিপি জি, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, ডিপি, এসপি, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং আইনগত কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
সিইসি নাসির উদ্দিন চট্টগ্রামে সম্প্রতি ঘটিত একটি ঘটনা উল্লেখ করে বললেন, “কয়েক দিন আগে চট্টগ্রামে কিছু প্রতিবাদকারী নিরাপদ কূটনৈতিক অঞ্চলে প্রবেশ করেছিল, যা আমাদের আইন শাসনের বাস্তবতা দেখার সুযোগ দেয়।” তিনি জোর দিয়ে বললেন, এই ধরনের ঘটনাকে নিয়মিতভাবে মোকাবিলা করে শাসনের নীতি স্পষ্ট করতে হবে।
কমিশনের ওপর বাড়তে থাকা সমালোচনার কথা তিনি উল্লেখ করে বললেন, “সম্প্রতি নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে সমগ্র দেশই আমাদের ওপর অভিযোগ তুলছে। বিশেষ করে নির্বাচন ব্যবস্থা বন্ধ করা, ফলাফল গড়ে তোলা ইত্যাদি অভিযোগ শোনা যাচ্ছে।” এসব অভিযোগের ফলে কমিশনের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা তিনি দূর করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
নাসির উদ্দিন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “আমরা এই দাগমুক্তি চাই। আমরা প্রমাণ করতে চাই যে আমরা একটি ন্যায়সঙ্গত, স্বচ্ছ নির্বাচন পরিচালনা করতে সক্ষম, এবং তা শুধুমাত্র আইন শাসনের মাধ্যমে সম্ভব।” তিনি আইনকে অন্ধ বলে বর্ণনা করে, সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রয়োগের গুরুত্ব জোর দিয়েছেন।
মাঠের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বললেন, “আপনাদের কাজ হল আইনকে অন্ধভাবে প্রয়োগ করা, যাতে কোনো পক্ষপাত না থাকে। আইন শাসনের মূল মানে হল, প্রত্যেকের ওপর সমানভাবে প্রয়োগ করা।” তিনি এই দায়িত্বকে তার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সিইসি আরও বলেন, “আমার ক্ষমতা কার্যকর হবে যদি জেলা কমিশনার ও এসপি সমন্বয়ে কাজ করেন। আপনারা যদি সহযোগিতা না করেন, তবে আমার ক্ষমতা অকার্যকর হয়ে যাবে।” তিনি পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাকে চালু, কার্যকর এবং ফলপ্রসূ রাখতে সকল স্তরের সহযোগিতা প্রয়োজনীয় বলে জোর দেন।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা একটি যুগান্তকারী মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি। দেশের অবস্থা যদি আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সঠিকভাবে পরিচালনা না করি, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের জবাবদিহি কঠিন হবে।” তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দায়িত্বশীলতা এবং স্বচ্ছতার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
শেষে তিনি সংক্ষেপে বললেন, “আসন্ন নির্বাচন আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। সকল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইন শাসনের নীতি মেনে চলতে হবে, যাতে একটি সুষ্ঠু, ন্যায়সঙ্গত এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।



