বগুড়া জেলার আদামদিঘি উপজেলায় আজ প্রভাতে ৩ টার কাছাকাছি একটি মাইক্রোবাসে লুকিয়ে থাকা দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতদেহটি গত রাত্রি ডুপচাঞ্চিয়া উপজেলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে অপহরণ হওয়া ৩৫ বছর বয়সী পিন্টু আকাশের, যিনি ডুপচাঞ্চিয়ার লটো শোরুমের মালিক ছিলেন। তার পরিচয় রাণীনগর, নওগাঁ জেলার লোহাগাছা গ্রাম থেকে আসা হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশের মতে, পিন্টু আকাশকে গুলিবিদ্ধ করে অপহরণ করার পর তাকে গলা চেপে মারা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে এখনো অটোপসি করা বাকি। অপহরণের পেছনের উদ্দেশ্য বা প্রেরণা এখনো অজানা, তদন্ত চলমান।
অভিযুক্তদের মধ্যে মাইক্রোবাসের চালক এবং আরেকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদে রয়েছে। গাড়ির জিপিএস ট্র্যাকার ব্যবহার করে পুলিশকে গন্তব্যস্থল আদামদিঘির কুমারপাড়া এলাকা থেকে দেহের অবস্থান চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়।
সিএসইভি ফুটেজে দেখা যায়, গত রাত ৯:০৮ টায় একটি সাদা হায়েস মাইক্রোবাস লটো শোরুমের সামনে থেমে চারজন মুখ ঢাকা অপরাধী গাড়ি থেকে নেমে আসে। তাদের মধ্যে একজন বন্দুক তোলার সঙ্গে সঙ্গে পিন্টুকে গুলিবিদ্ধ করে শোরুম থেকে টেনে বের করে গাড়িতে টেনে নেয়। এরপর গাড়ি দ্রুত বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে আদামদিঘি দিকে রওনা হয়।
আদামদিঘি সি.ই.উ.র সহকারী সুপারইন্টেনডেন্ট মো. আসিফ হোসেন জানান, “আমরা বর্তমানে ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও সিএসইভি রেকর্ড বিশ্লেষণ করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। গুলিবিদ্ধের দেহের অবস্থান নিশ্চিত করার পর অটোপসির মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “অভিযুক্তদের মধ্যে মাইক্রোবাসের চালক ও আরেকজন সন্দেহভাজনকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদে রাখা হয়েছে।”
পুলিশের মতে, দেহটি আজ প্রভাতে ৩ টার দিকে উদ্ধার করা হয়েছে। গাড়ির জিপিএস ডেটা অনুসরণ করে কুমারপাড়া এলাকায় গাড়ি থেমে থাকা অবস্থায় দেহটি পাওয়া যায়। দেহটি স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং অটোপসির জন্য প্রস্তুত।
এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নিকটবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পেট্রোল ও গশ্বর মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া, দেহের পরিবারকে সহায়তা ও তথ্য প্রদান করা হচ্ছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুলিবিদ্ধ, অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ আনা হবে বলে পুলিশ জানায়। মামলার অগ্রগতি ও অটোপসির ফলাফল জানার সঙ্গে সঙ্গে আদালতে আনুষ্ঠানিক রায় দেওয়া হবে।
এই অপরাধের পটভূমি ও সম্ভাব্য প্রেরণা সম্পর্কে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সংশ্লিষ্ট সকল প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
দেহের পরিবার ও শোরুমের কর্মচারীরা শোকাহত, তবে তারা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় রয়েছেন। স্থানীয় সমাজে এই ধরনের হিংসাত্মক অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
পুলিশের শেষ মন্তব্যে বলা হয়েছে, “আমরা দ্রুততরভাবে তদন্ত শেষ করে অপরাধীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব এবং এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”



