মেক্সিকোর নৌবাহিনীর একটি চিকিৎসা সেবা স্থানান্তর মিশন পরিচালনার সময় যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস রাজ্যের উপকূলীয় জলে একটি বিমান ধসে পাঁচজনের প্রাণ ত্যাগ হয়েছে। ঘটনাটি ২২ ডিসেম্বর, সোমবার ঘটেছে এবং মেক্সিকোর নৌবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে জানিয়েছে। এ দুর্ঘটনা উভয় দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ওপর প্রশ্ন তুলেছে।
বিমানটি মেক্সিকোর মেরিন কর্পসের অধীনে পরিচালিত একটি জরুরি সেবা মিশন ছিল, যেখানে রোগী ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহন করা হচ্ছিল। মিশনটি টেক্সাসের সমুদ্রসীমায় প্রবেশের পর অপ্রত্যাশিতভাবে বিধ্বস্ত হয়, যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে তৎক্ষণাৎ সাড়া দিতে বাধ্য করে।
বিমানটি যখন আকাশে উড়ছিল, তখন তা হঠাৎ করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সমুদ্রের দিকে নেমে আসে এবং শেষ পর্যন্ত পানিতে ডুবে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত মার্কিন কোস্টগার্ডের দল দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করে, তবে দুঃখজনকভাবে পাঁচজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।
মেক্সিকোর নৌবাহিনীর প্রকাশ্য বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোদের পরিবারকে গভীর সমবেদনা জানানো হচ্ছে এবং মৃতদের শেষকৃত্য যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হবে। মৃতদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে সূত্র অনুযায়ী সবই মিশনের কর্মী।
মার্কিন কোস্টগার্ডের পেটি অফিসার লুক বেকার এপিএকে জানিয়েছেন, বিমানটি কমপক্ষে পাঁচজনকে নিয়ে উড়েছিল এবং কোনো যাত্রী শনাক্ত করা যায়নি। তিনি উল্লেখ করেছেন, উদ্ধারকাজের সময় কঠিন আবহাওয়া পরিস্থিতি কাজকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছিল।
মেক্সিকোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনার পর টেক্সাসের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য শেয়ার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন, দু’দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও মানবিক মিশনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত ফলাফল শেয়ার করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতও ঘটনাটির প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে, মেক্সিকোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে নিরাপত্তা মানদণ্ড শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, উভয় দেশের সামুদ্রিক সেবার মান উন্নয়নে যৌথ প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ।
এই দুর্ঘটনা পূর্বে ঘটিত সামুদ্রিক দুর্ঘটনা, যেমন ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে মাদকবাহী নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ও কেরিয়ার বিমানের অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামুদ্রিক পরিবহন ও মানবিক মিশনের ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা প্রোটোকল পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সমুদ্রসীমায় চলমান সহযোগিতা ও তথ্য ভাগাভাগি ব্যবস্থা এই ধরনের ঘটনার প্রতিক্রিয়া দ্রুত করতে সহায়তা করবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তবে তারা সতর্ক করেছেন, সমুদ্রের বিস্তৃত এলাকা ও পরিবর্তনশীল আবহাওয়া পরিস্থিতি ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
দুর্ঘটনার পর উভয় দেশের সরকারই একটি যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করার পরিকল্পনা জানিয়েছে, যেখানে বিমানটির রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ড, পাইলটের প্রশিক্ষণ ও আবহাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে। ফলাফল অনুযায়ী ভবিষ্যতে অনুরূপ মিশনের জন্য নতুন নিরাপত্তা নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হবে।
এই ঘটনার ফলে মেক্সিকোর সামুদ্রিক মানবিক মিশনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমুদ্রসীমায় চলমান সব ধরণের মানবিক ও চিকিৎসা সেবার জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। উভয় দেশই এই দুঃখজনক ঘটনার শোক প্রকাশ করে, ভবিষ্যতে নিরাপদ সমুদ্র পরিবহন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।



