28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিপুতিনের ইউরোপ হুমকি না হওয়ার দাবি ও রাশিয়ার ইউক্রেন দখল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের...

পুতিনের ইউরোপ হুমকি না হওয়ার দাবি ও রাশিয়ার ইউক্রেন দখল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্লেষণ

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের নিরাপত্তা হুমকি নয় বলে দাবি করে আসছেন, তবে তার এই বক্তব্যের সঙ্গে তার সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে স্পষ্ট বিরোধ দেখা দেয়। পুতিন চারটি প্রদেশ ও ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে ঘোষণা করেছেন, যদিও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।

বর্তমান তথ্য অনুযায়ী রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় বিশ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, যা যুদ্ধের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। এই দখলকৃত এলাকা মূলত ডোনেটস্ক ও লুহান্স্কের কিছু অংশ, পাশাপাশি ক্রিমিয়া এবং পূর্বে উল্লেখিত চারটি প্রদেশ অন্তর্ভুক্ত।

মার্কিন কংগ্রেসের হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির ডেমোক্র্যাট মাইক কুইগলি উল্লেখ করেছেন যে গোয়েন্দা তথ্য ধারাবাহিকভাবে পুতিনের লক্ষ্যকে আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি বলেন, রাশিয়ার বর্তমান কৌশল কেবল সীমিত ভূখণ্ড দখলেই থেমে না থেকে বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের দিকে ঝুঁকছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে দোনেটস্কের অবশিষ্ট অংশ থেকে সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করতে চাপ দিচ্ছেন, যা একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির শর্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি এবং দেশের অধিকাংশ নাগরিক এই প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, কারণ তারা এটিকে তাদের সার্বভৌমত্বের ক্ষতি হিসেবে দেখছেন।

হোয়াইট হাউসের একটি কর্মকর্তার মতে, ট্রাম্পের দল যুদ্ধ সমাপ্তির পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং বর্তমানে শান্তি চুক্তি পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে নিকটবর্তী। এই মন্তব্যটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আলোচনার সঙ্গে যুক্ত, যেখানে ট্রাম্পের নীতি ও ইউক্রেনের স্বার্থের সমন্বয় নিয়ে বিতর্ক চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন যে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা কংগ্রেসকে ব্রিফ করে রাশিয়া ইউরোপের সঙ্গে বৃহৎ পরিসরের যুদ্ধ এড়াতে চায় বলে জানিয়েছেন। গ্যাবার্ডের মতে, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক পারফরম্যান্স দেখায় যে তারা পুরো ইউক্রেন, তদুপরি ইউরোপ দখল করার সামর্থ্য রাখে না।

এ spite, গোয়েন্দা মহলের একটি বড় অংশের ধারণা হল যে রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা সীমিত হলেও পুতিনের কৌশলগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা অটুট রয়ে গেছে। তারা যুক্তি দেন যে রাশিয়া তার প্রভাব ক্ষেত্রকে পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণের জন্য বিকল্প কৌশল অনুসন্ধান করছে, যা ভবিষ্যতে ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।

এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বহু স্তরের প্রভাব ফেলবে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিতর্কে ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগের গ্রহণযোগ্যতা, ইউক্রেনের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার প্রচেষ্টা এবং রাশিয়ার কৌশলগত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে পারস্পরিক টানাপোড়েন ভবিষ্যৎ আলোচনার দিক নির্ধারণ করবে। বিশেষত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো রাশিয়ার সম্ভাব্য আক্রমণাত্মক নীতি মোকাবেলায় তাদের নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনা করতে পারে।

সারসংক্ষেপে, পুতিনের ইউরোপ হুমকি নয় এমন বক্তব্য, রাশিয়ার ইউক্রেনের আংশিক দখল, ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিশ্লেষণ একসঙ্গে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক জটিলতাকে উন্মোচন করে। এই বিষয়গুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনার রূপরেখা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments