বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দল জামাত‑ই‑ইসলামি তার আমীর ড. শফিকুর রহমানের সুরক্ষার জন্য ২৪ ঘন্টা গনমানের গার্ড এবং তার বাসার আশেপাশে সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছে। এই অনুরোধটি গৃহমন্ত্রীকে ২১ ডিসেম্বর একটি চিঠির মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়।
চিঠির একটি কপি সংবাদমাধ্যমের হাতে পৌঁছেছে, যেখানে দলটি তার দীর্ঘদিনের “ন্যায়সঙ্গত সংগ্রাম”কে উল্লেখ করে জনগণের মৌলিক অধিকার, ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ গঠন এবং গণতন্ত্রের সংহতির লক্ষ্যে কাজের কথা তুলে ধরেছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, পূর্বের “ফ্যাসিস্ট” শাসনকালে জামাতের নেতৃত্বকে “অমানবিক” নির্যাতন, দমন, হত্যা এবং জবরদস্তি করে নিখোঁজ করা হয়েছিল। দলটি এই শাসনকে তার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এছাড়াও দলটি দাবি করে যে, অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে গিয়ে তার নেতারা “আওয়ামী সন্ত্রাসী”দের লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে। “জুলাই উত্থান”ের পর থেকে এই সন্ত্রাসীরা “হত্যা ও আক্রমণ” চালিয়ে যাচ্ছে, যা সাম্প্রতিক ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।
চিঠিটি জামাতের অফিস সেক্রেটারি এএফএম আবদুস সাত্তার স্বাক্ষরে শেষ হয়েছে। তিনি দলটির পক্ষ থেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনুরোধটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেছেন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে জামাতের উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে যে, “আওয়ামী সন্ত্রাসী”দের কার্যকলাপ বাড়বে এবং তা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
ড. শফিকুর রহমান, যিনি দলটির প্রধান হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়িয়ে তুলেছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গৃহযাত্রা, সমাবেশ এবং র্যালি পরিচালনা করছেন। তার এই চলাচলকে দলটি জনগণের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
চিঠিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করার জন্য গনমানের গার্ডের নিয়োগ এবং বাসার সুরক্ষার জন্য সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েনকে “অত্যাবশ্যক” বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং গৃহমন্ত্রীর কাছ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
এছাড়াও চিঠির একটি কপি পুলিশ প্রধান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত ইন্টারসেপ্টর জেনারেলকে তথ্যের জন্য পাঠানো হয়েছে, যাতে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।
স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান ও অতিরিক্ত ইন্টারসেপ্টর জেনারেল গোলাম রাসুল চিঠি পাওয়া নিশ্চিত করে জানান, এখন নিরাপত্তা হুমকি বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দলটির এই নিরাপত্তা অনুরোধের পরবর্তী ধাপ হিসেবে গৃহমন্ত্রীর দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলি চিঠিতে উল্লিখিত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে গনমানের গার্ড ও সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েনের অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেবে। দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে এই পদক্ষেপের প্রভাব কী হবে তা সময়ই প্রকাশ করবে।



