28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনির্বাচন‑পূর্ব ও ভোটের দিনে অপরাধ রোধে বিচারিক কমিটির ক্ষমতা ও শাস্তি নির্ধারিত

নির্বাচন‑পূর্ব ও ভোটের দিনে অপরাধ রোধে বিচারিক কমিটির ক্ষমতা ও শাস্তি নির্ধারিত

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুসারে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ও ভোটের দিন নির্বাচনী অপরাধ রোধে বিচারিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ভোটের সময় কোনো অবৈধ প্রভাব, ঘুষ, মিথ্যা বিবৃতি বা ভোটে হুমকি সৃষ্টি করলে তা তদন্ত করে শাস্তি আরোপের ক্ষমতা রাখে।

কমিটির সদস্য হিসেবে ৩০০ আসনের জন্য ৩০০ বিচারক নিয়োগ করা হয়েছে। তারা বিচারিক কাজের পাশাপাশি নির্বাচনী অনিয়মের তদন্তে অংশ নেবে এবং ফলাফল নির্বাচন কমিশনকে সুপারিশ করবে। আরপিওর ধারা ৭৩, ৭৫, ৭৭ ও (৯১ খ) অনুযায়ী এই বিচারকরা তাদের দায়িত্ব পালন করবে।

তফসিলের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৯ ডিসেম্বর, আর প্রার্থীরা ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে প্রচারণা শুরু করবে। নির্বাচনী অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিচার নিশ্চিত করতে তফসিল ঘোষণার পর থেকে গেজেট প্রকাশের আগে পর্যন্ত কমিটি কাজ করবে।

বিচারিক কমিটি কোনো ব্যক্তিকে শপথপূর্বক সাক্ষ্য দিতে, প্রয়োজনীয় নথি বা বস্তু দাখিল করতে এবং আদালতের মতোই হাজির হতে বাধ্য করতে পারে। এছাড়া, অনুসন্ধান বা বিচার প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তা চাওয়ার অধিকারও রয়েছে।

ভোটের সময় অবৈধ প্রভাব, ঘুষ আদান-প্রদান, প্রতিদ্বন্দ্বীর চরিত্র নিয়ে মিথ্যা বিবৃতি, রিটার্নিং অফিসারের কাছে অননুমোদিত ব্যয়, ভোটে হুমকি বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা ইত্যাদি অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে।

ভোটের দিন কেন্দ্রের চারশো গজের মধ্যে কোনো প্রকার প্রচার, বিশেষ কাউকে ভোট দিতে প্ররোচিত করা বা অননুমোদিত উপায়ে ভোটারকে প্রভাবিত করা হলে সর্বনিম্ন ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে।

প্রার্থীর দলীয় আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রেও কমিটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। এর ফলে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ নিয়ন্ত্রণে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে উঠবে।

নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে কমিটির কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা সম্বলিত পরিপত্র জারি করেছে। এই নির্দেশিকায় কমিটির ক্ষমতা, দায়িত্ব ও প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে নির্বাচন‑পূর্ব অনিয়মের প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

কমিটির কার্যক্রমের ফলাফল নির্বাচন কমিশনের কাছে পৌঁছালে, কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে ফলাফল প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া থামাতে পারে। ফলে কোনো অনিয়মের প্রভাব ভোটের ফলাফলে পৌঁছানোর আগে নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

বিচারিক কমিটির গঠন ও ক্ষমতা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যে তাদের অবস্থান প্রকাশ করেছে। তারা দাবি করেছে যে, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও বিশ্বাসযোগ্য হবে। অন্যদিকে, কিছু দল কমিটির ক্ষমতা অতিরিক্ত বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এই নতুন ব্যবস্থা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী অপরাধের দ্রুত ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। কমিটির কাজের গতি ও স্বচ্ছতা ভবিষ্যতে নির্বাচনী সংস্কারের মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের মতে, কমিটি গঠন ও তার কার্যপ্রণালী সংবিধানিক বিধান ও আরপিওর ধারার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই, কোনো আইনি আপত্তি না থাকলে কমিটি পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করবে।

অবশেষে, ভোটের দিন ও তার আগে অপরাধ রোধে বিচারিক কমিটির ভূমিকা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই কাঠামো নির্বাচনের ফলাফলকে বৈধতা প্রদান এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments