28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিএ কে আজাদ: সুষ্ঠু নির্বাচনে বিএনপি দশ সিট হারালেও ক্ষমতায় কোনো বাধা...

এ কে আজাদ: সুষ্ঠু নির্বাচনে বিএনপি দশ সিট হারালেও ক্ষমতায় কোনো বাধা নেই

ঢাকা, ২২ ডিসেম্বর – সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নোয়াবের সভাপতি এ কে আজাদ রাষ্ট্রীয় হোটেলে অনুষ্ঠিত বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন অনুষ্ঠানে একটি মতবিনিময় সভায় গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি একটি স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনেও বিএনপি দশটি আসন হারায়, তবুও তাদের ক্ষমতায় আসতে কোনো বাধা থাকবে না।

আজাদের মতে, সাম্প্রতিক প্রথম আলো জরিপে দেখা যায় যে বিএনপির জনসমর্থন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সুষ্ঠু নির্বাচনেও তারা জয়লাভের সম্ভাবনা রাখে। তিনি এই তথ্যকে ভিত্তি করে বললেন, বিএনপির জয় নিশ্চিত নয়, তবে জনমতের শক্তি তাদের অবস্থানকে দৃঢ় করে।

সভায় উপস্থিত সাংবাদিক ও মিডিয়া প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে আজাদ জোর দিয়ে বলেন, স্বচ্ছ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব সাংবাদিক সমাজ এবং বিএনপির ওপরই পড়ে। তিনি উল্লেখ করেন, মিডিয়ার স্বাধীনতা ও গঠনমূলক সমালোচনা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াতে অপরিহার্য।

নির্বাচনের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আজাদ বলেন, যদি দেশীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে নির্বাচনকে বৈধতা না দেওয়া হয়, তবে তা দেশের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, বহু বিদেশি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

মিডিয়ার স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যদি সরকার মিডিয়াকে উন্মুক্ত করে গঠনমূলক সমালোচনার সুযোগ দেয়, তবে সাংবাদিকরা দায়িত্বশীলভাবে তা প্রকাশ করবে। তিনি স্বীকার করেন, মিডিয়ার কাজের মধ্যে ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে, এবং সেই ভুলগুলো সংশোধনের জন্য পাঠকদের দিকনির্দেশনা কামনা করেন।

আজাদ আরও উল্লেখ করেন, যখন মিডিয়া দুর্নীতি ও অন্যায় প্রকাশ করে, তখন সরকারের উচিত তা দ্রুত সংশোধনের পদক্ষেপ নেওয়া। তিনি বলেন, যদি সরকার মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়, তবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হবে।

ভবিষ্যৎ সরকারের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপের প্রস্তাব দিয়ে আজাদ বলেন, নির্বাচনের পর সরকার প্রতি ছয় মাসে একবার মিডিয়ার সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। তিনি এই ধারাকে “এভরি সিক্স মান্থ” বলে উল্লেখ করে, এভাবে ভুলগুলো সময়মতো ধরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে বলে যুক্তি দেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বও অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনার সময় আজাদ উল্লেখ করেন, স্বচ্ছ নির্বাচন ও মিডিয়া স্বাধীনতা একসঙ্গে চললে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সুনাম উভয়ই বৃদ্ধি পাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মিডিয়া যখন দুর্নীতি ও অবিচার উন্মোচন করে, তখন সরকারকে তা সংশোধনের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ ধরনের সংলাপের মাধ্যমে সরকার ও মিডিয়ার মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে উঠলে, ভবিষ্যতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা সহজ হবে। আজাদ এই দৃষ্টিকোণ থেকে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য একটি কাঠামোগত সংলাপ প্রক্রিয়া গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

সভা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় আজাদ বলেন, মিডিয়া যদি তাদের দায়িত্ব পালন করে এবং সরকার যদি মিডিয়ার সুপারিশ মেনে চলে, তবে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে। তিনি শেষ করে বলেন, “সত্যিকারের গণতন্ত্রের জন্য স্বচ্ছ নির্বাচন, স্বাধীন মিডিয়া এবং নিয়মিত সংলাপই মূল চাবিকাঠি।”

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments