আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করতে নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনটি সশস্ত্র বাহিনী সমন্বিতভাবে এক লাখের কাছাকাছি সেনা সদস্যকে মাঠে মোতায়েনের পরিকল্পনা জানিয়েছে।
বুধবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে নির্বাচন কমিশনের প্রধান, এম এম নাসির উদ্দীন, তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে প্রথম পূর্ব-নির্বাচন বৈঠক করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার‑উজ‑জামান, নৌবাহিনীর প্রধান এডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। এছাড়া চারজন নির্বাচন কমিশনার এবং ইসি সচিবও অংশ নেন।
বৈঠকের পরে নির্বাচনী কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, নির্বাচনের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিচালনা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সেনাবাহিনীর প্রায় এক লাখ সদস্যকে নির্বাচনী ক্ষেত্রের বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হবে। বর্তমানে এক‑তৃতীয়াংশ সেনা সদস্য মাঠে উপস্থিত, বাকি দুই‑তৃতীয়াংশ ধাপে ধাপে যুক্ত করা হবে, যাতে শেষ পাঁচ দিন নয়, পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া জুড়ে সম্পূর্ণ উপস্থিতি বজায় থাকে।
সানাউল্লাহ আরও উল্লেখ করেন, তিন বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যেখানে সেনা, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে, সেখানে কোনো সদস্যই কমানো হয়নি। প্রয়োজনে মোতায়েন বাড়ানোর সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে যৌথ বাহিনীর অভিযান (অপারেশন) জোরদার করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ের সমন্বয় সেলগুলোর মাধ্যমে বাহিনীগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্রের উদ্ধার, সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রতিরোধ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বৈঠকে তিন বাহিনীর প্রধানরা নির্বাচন কমিশনকে আশ্বাস দেন যে নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তারা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে এবং চলাকালীন সময়ে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে এবং জরুরি অবস্থায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য সদস্যরা এই সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরে বললেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপরিহার্য। তারা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনো অনধিকারিক হস্তক্ষেপ রোধে সব ধরনের সতর্কতা গ্রহণ করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টা একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই পরিকল্পনা নির্বাচনের সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
নির্বাচন কমিশনের শেষ বিবৃতি অনুযায়ী, নির্বাচনের শেষ পাঁচ দিন নয়, পুরো প্রক্রিয়া জুড়ে এক লাখ সেনা সদস্যের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। এই ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং নির্বাচনের ফলাফলকে বৈধতা প্রদান করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিটি জেলা পর্যায়ে সমন্বয় সেল গঠন করে স্থানীয় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া, অবৈধ অস্ত্রের তফসিল, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রমের পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
এই সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা নির্বাচনের স্বচ্ছতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং জনগণের বিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



