রোড আইল্যান্ডের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় ১৩ ডিসেম্বরের গুলিবিদ্ধে দুইজনের মৃত্যু এবং নয়জনের আঘাতের পর, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা পুনর্মূল্যায়নের অংশ হিসেবে পুলিশ প্রধান রোডনি চ্যাটম্যানকে অবিলম্বে অবকাশে রাখার সিদ্ধান্ত জানায়। এই সিদ্ধান্তটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা প্যাক্সন সোমবার প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি এটিকে “স্ট্যান্ডার্ড” নিরাপত্তা পর্যালোচনার অংশ বলে উল্লেখ করেন।
চ্যাটম্যানের অবকাশের কার্যকরী তারিখ একই দিনই নির্ধারিত হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় জানায় যে গুলিবিদ্ধের পর পুলিশ বিভাগের প্রতিক্রিয়া ও সন্দেহভাজনকে দ্রুত শনাক্ত করতে ব্যর্থতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। এই সমালোচনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।
গুলিবিদ্ধটি ১৩ ডিসেম্বর রাতে ঘটেছিল, যখন একাধিক গুলি চালিয়ে দুইজনের প্রাণ ত্যাগ হয় এবং নয়জনের শারীরিক আঘাত হয়। ঘটনাস্থলে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা কর্মীরা তৎক্ষণাৎ হস্তক্ষেপ করে, তবে সন্দেহভাজনকে তৎক্ষণাত ধরা না পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগও এই ঘটনার পর ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর একটি স্বাধীন পর্যালোচনা চালু করেছে। শিক্ষা বিভাগের এই উদ্যোগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা নীতি ও প্রক্রিয়ার যথার্থতা যাচাই করবে।
ছয় দিন পর, ৪৮ বছর বয়সী ক্লাউডিও নেভেস ভ্যালেন্টে নামের পর্তুগিজ নাগরিককে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ভ্যালেন্টে পূর্বে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং তিনি শুক্রবার নিউ হ্যাম্পশায়ারের স্যালেমে একটি স্টোরেজ সুবিধায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
অধিকন্তু, কর্তৃপক্ষের মতে ভ্যালেন্টে গুলিবিদ্ধের দুই দিন পর ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT) এর একজন প্রফেসরকে হত্যা করার দায়িত্বে ছিলেন। উভয় ঘটনার জন্য এখনো কোনো স্পষ্ট প্রেরণা প্রকাশ করা হয়নি, যা তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে।
প্রেসিডেন্ট প্যাক্সন তার বিবৃতিতে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা কর্মীদের সাহস, নিষ্ঠা এবং প্রতিশ্রুতিকে প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি গুলিবিদ্ধের পর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়া উদ্বেগ, ভয় এবং মানসিক চাপের কথা স্বীকার করে, এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গৃহীত তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে গুলিবিদ্ধের প্রতিক্রিয়ার একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা এবং বর্তমান নিরাপত্তা নীতির পুনর্মূল্যায়ন। এই দুটো কাজই বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ শাসন সংস্থা দ্বারা পরিচালিত হবে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।
শিক্ষা বিভাগের পর্যালোচনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা একসাথে কাজ করবে, যাতে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা দ্রুত সংশোধন করা যায়। এই প্রক্রিয়ায় ক্যাম্পাসের ক্যামেরা সিস্টেম, জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক সহায়তা প্রোগ্রাম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গুলিবিদ্ধের পর ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যামেরা সংখ্যা অপর্যাপ্ত বলে সমালোচনা করেন। প্যাক্সন এই সমালোচনার জবাবে জানান যে ক্যাম্পাসে ইতিমধ্যে ১২০টি নিরাপত্তা ক্যামেরা স্থাপিত রয়েছে, যা নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকে শক্তিশালী করতে সহায়ক।
পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ: ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নীতি ও জরুরি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন থাকুন, সন্দেহজনক কোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরাপত্তা কর্মীকে জানান, এবং মানসিক চাপের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শদাতা সেবা ব্যবহার করুন। এই পদক্ষেপগুলো ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমষ্টিগত নিরাপত্তা সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করবে।



